পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হওয়া প্রায় ৬৯ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে প্রধান মূল্যসূচকটি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণও। উৎপাদনমুখী অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বেড়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন। লেনদেন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

উৎপাদনমুখী কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে পুঁজিবাজারে কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। গতকাল ব্যাংক ও জ¦ালানি খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমলেও অন্য খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। এতে ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৬ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৫১৬০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত দেড় বছর ধরে চলা দরপতনের কারণে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশে রয়েছে। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির আয়ে তেমন নেতিবাচক প্রভাব না থাকলেও তারল্য সংকটের কারণে চলতি বছর প্রায় ৯০টি কোম্পানি ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত দর হারায়। শেয়ার দরের নি¤œমুখী অবস্থানই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া তারল্য সংকট থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আহ্বানও চাঙ্গাভাব ফেরাতে সহায়তা করছে। এসব কারণে গত তিন কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ১৮৩ পয়েন্ট।

এদিকে অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট, যা আগের দিনের চেয়ে ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। গতকাল সাধারণ বীমা, ফার্মাসিউটিক্যালস, মিউচুয়াল ফান্ড, বিবিধ ও জ¦ালানি খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে।

চলতি বছর বড় ধরনের দর হারানোর পর গতকাল বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়লেও পাট, বস্ত্র, সিমেন্ট ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এরমধ্যে পাট খাতের শেয়ারের গড় মূল্য বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারের গড় মূল্য ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর বাইরে সিমেন্ট, সিরামিক, সাধারণ বীমা, ট্যানারি ও বস্ত্র খাতের শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিপরীতে মিউচুয়াল ফান্ড ও ব্যাংক খাতের শেয়ারের দর কমেছে।