পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ শেখ হাসিনার

সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে থাকা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঘরে বসে না থেকে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বন্যার্তদের পাশে থাকতেও দলীয় নেতাকর্মীদের বলেছেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভায় লন্ডন থেকে ফোন করে এই নির্দেশ দেন তিনি। ওই

সভায় লন্ডন থেকে মোবাইলে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। পরে মোবাইলের লাউড স্পিকারে বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। সবাইকে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নিয়ে নেতাদের মাঠে নামতে হবে। এরপরই তিন দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে আওয়ামী লীগ।

সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রায় ২১টি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। এটা নিয়ে আমাদের করণীয় আছে। শুধু সরকারি দায়িত্ব পালনের মধ্যে আমাদের কর্মকাণ্ড সীমিত রাখতে চাই না। দলীয়ভাবে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তিন দিনব্যাপী সচেতনতামূলক, সতর্কতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পালন করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩১ জুলাই, ২ আগস্ট ও ৩ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করব। এর সঙ্গে সতর্কতা ও সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করব। এটা আমাদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশ। ডেঙ্গুবিরোধী সারা দেশে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে।’

ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাদের (দুই মেয়র) যা বলা প্রয়োজন ছিল, তা বলে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিনই দুই মেয়রের সঙ্গে কথা বলছেন; স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন। যখন যার সঙ্গে কথা বলা দরকার, বলছেন। তাদের কথাবার্তায় সিøপ হতে পারে। তারাও তো মানুষ। তবে তাদের আন্তরিকতা আছে।’

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রথম দিকে ডেঙ্গু এতটা প্রকট হবে, এটা হয়তো-বা কেউ ভাবেনি। যখন এর বিস্তার ভয়াবহ পর্যায়ে চলে এসেছে, তখন কিন্তু আমরা কেউ নিষ্ক্রিয় থাকিনি; দলীয়ভাবে চেষ্ট করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। চিকিৎসার ব্যাপারটা গুরুত্বর্পূণ না হলে এই মুহূর্তে বিদেশে থাকার কথা নয়। দুই মেয়রের সঙ্গে প্রতিনিয়তই টেলিফোনে কথা বলছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন।’

‘ডেঙ্গু মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ ছিটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মাধ্যমে কি এটা প্রমাণিত হয়, আগের ওষুধ অকার্যকর ছিল?’Ñ এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘সেটা না। দীর্ঘদিন হয়তো ওষুধ পড়ে থাকার কারণে ওষুুধের কার্যকারিতা হারাতে পারে। এর জন্যই কার্যকর ওষুধ প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’  

বন্যা নিয়ে কাদের বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের ছয়টি টিম কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। পুনর্বাসন পর্যন্ত থাকবে। শুধু বন্যা চলাকালে নয়, বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন পর্যন্ত মাঠে থাকব। সবাইকে পুনর্বাসন করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বন্যার্তদের পাশে থাকবে, এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।’

একজন সরকারি কর্মকর্তার গাড়ির অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে তিন ঘণ্টা ফেরি দাঁড় করিয়ে রাখায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় আছেন, এখানে যে যত প্রভাবশালী হোক না কেন, অন্যায় করে পার পাবে না। প্রত্যেকটা বিষয় তদন্ত হচ্ছে; খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ অন্যায় করে তার শাস্তি হতেই হবে।’

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ।