পাস্তুরিত দুধ নিয়ে আমদানিকারকদের কোনো কারসাজি আছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের বিশেষ জরুরি সভায় লন্ডন থেকে মুঠোফোনে দলের নেতাদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই, একজন দুধ পরীক্ষা করে বলে দিল, দুধ ব্যবহারযোগ্য নয় এবং সঙ্গে সঙ্গে রিট করা হয়। সেখানে বলে দেওয়া হয়, পাঁচ সপ্তাহ দুধ ব্যবহার করা যাবে না বা খাওয়ানো যাবে না। আমরা খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছি, মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চেয়েছি। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যাতে খেতে পারে, সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। যথাযথভাবে এগুলো যাতে পরীক্ষা করা হয়, সেজন্য আমাদের বিএসটিআই উন্নতমানের করে দিয়েছি। প্রত্যেকটা খাদ্যপণ্যের কী কী বিষয় পরীক্ষা করা হয়, তার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আছে। সেই মানদণ্ডের ভিত্তিতে এগুলো পরীক্ষা করা হয় এবং বাজারজাত করা হয়। সরকারের সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে; সেখানে আমরা করি।’
আমদানিকারকদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি, সাধারণ মানুষের যে বেঁচে থাকার পথগুলো সৃষ্টি করা, সেগুলো কেন বাধাগ্রস্ত করা হয়, এটাই আমার প্রশ্ন। এখানে আমার মনে হচ্ছে যে, আমদানিকারক যারা তাদের কোনো কারসাজি আছে কি না, সেটা আমাদের দেখা উচিত বা তারা কোনোভাবে উৎসাহিত করছে কি না। আর যারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, তাদের এ বিষয়ে ভাবা উচিত, দেখা উচিত। হঠাৎ একটা গুজব ছড়িয়ে রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করা বা দেশের উৎপাদিত পণ্যের মান সম্পর্কে কথা বলা; এটা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। কাজেই যারা গুজব ছড়াবে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবে, তাদের ওপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর উপাদান নিয়ে পরীক্ষা চালানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না, হঠাৎ একজন প্রফেসর সাহেব, তার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে একটা কথা ছড়িয়ে দিয়ে একটা রিট করা বা একটা সিদ্ধান্ত নেওয়াটা এর প্রকৃত ফলাফলটা কী হবে, সেটা হয়তো কেউ চিন্তা করে না। দুধ বিক্রি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে। আবার গরুর দুধ বিক্রি করে সেই গরুর খাবারও জোগাড় করা হয়। যারা খামার করেছে বা গরু পালন করছে, তাদের কাছে থেকে দুধ কেনা হচ্ছে। এই মানুষগুলোর কাছে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য মানুষকে গরু কিনে দিয়েছি। এই মানুষগুলো যদি দুধ বিক্রি করতে না পারে, অর্থ জোগাড় করতে না পারে, তাহলে গরুকে কী খাবার দেবে আর নিজে কীভাবে খাবার কিনে খাবে? এই বাস্তবতাটা চিন্তা করা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যে সমস্ত গুঁড়ো দুধ আমদানি করা হয়, আমি জানি না যিনি আমাদের দেশের দুধটা পরীক্ষা করেছেন, তিনি বিদেশ থেকে আমদানি করা গুঁড়ো দুধগুলো পরীক্ষা করেছেন কি না। আমার মনে হয়, তিনি এটা কখনো করেন নাই। আমি অনুরোধ করব, তিনি যেন বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে, বাজারজাত করা হচ্ছে, সেগুলো যেন পরীক্ষা করে দেখেন। আমরা আমদানিনির্ভর থাকতে চাই না, স্বনির্ভর থাকতে চাই। আমরা দেশের চাহিদা দেশের উৎপাদিত পণ্য দ্বারা মেটাতে চাই।’
ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইদানীং একটা উপদ্রব দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু। এই ডেঙ্গুজ¦রটা প্রথম দিকে যখন শুরু হয় তখন আমরা দেখেছি যে, বিশেষ করে শহর এলাকা বা ঢাকা শহরে এটা বিস্তার লাভ করছিল। তবে এটা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর সামনে আমাদের কোরবানির ঈদ, ঈদুল আজহার সময়, মানুষ সবাই বাড়িতে যাবে। যারা ডেঙ্গুজ¦রে এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে বা যাদের শরীরে এটা রয়ে গেছে, নিজ নিজ এলাকায় গেলে পরে ফের যদি মশা কামড় দেয়, তাহলে এই রোগটা সংক্রমিত হতে পারে। এজন্য আমি সবাইকে বিনীত অনুরোধ করব, যার যার নিজের ঘরবাড়ি, কাপড়চোপড় যেগুলো আলনায় ঝোলানো থাকে বা বাক্স-পেঁটরায় থাকে বা আলমারিতে থাকে, এগুলো ঝেড়ে রাখা, কোথাও মশা আছে কি না দেখা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে। কারণ বর্ষাকাল, বৃষ্টি হয়, পানি জমে থাকে। ওই পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া যায়, মশা জন্মগ্রহণ করে। তবে এডিস মশা বেশি ওপরে উঠতে পারে না, বিশেষ করে পায়ের দিকে কামড়ায়। এজন্য ঘুমানোর সময় মশারি টানান।’