নগর ভবনেই ডেঙ্গু আতঙ্ক!

রাজধানীজুড়ে ডেঙ্গু ছড়ানোর পর এবার নগরে মশা নিধনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানেই দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের স্বজন এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার ও মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ হাসপাতালে, কেউ নিজ বাসায় চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অফিসে থাকাকালীন মশা থেকে রক্ষা পেতে ওষুধ ব্যবহারসহ অন্য ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দিনের দপ্তরের প্রধান সহকারী মো. তোফাজ্জল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি গত বুধবার থেকে ডেঙ্গুজ্বরে ভুগছি। বর্তমানে ছুটি নিয়ে নিজ জেলা নরসিংদীতে সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।’ ডেঙ্গু আক্রান্ত আরেক কর্মকর্তা সৈয়দ আলী রেজা প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। গতকাল রাতে ফোনে তিনি বলেন, ‘আমি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৪-৫ দিন ধরে অফিসে যেতে পারছি না। শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এ নিয়ে বেশ চিন্তায় আছি।’

নিজ দপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার ধলপুরে সিটি করপোরেশনের কোয়ার্টারে থাকি। কিছুদিন ধরে আমার স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। বর্তমানে তাকে সায়েদাবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ নগর ভবনে কর্মরত এক প্রকৌশলীর মেয়ে রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। গত বৃহস্পতিবার থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেয়ের জ্বর হওয়ার পরই পুরো পরিবার চিন্তায় পড়ে গেছি। এরপর ডাক্তারের পরামর্শে কিছু পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে তদবির করে স্কয়ারে ভর্তি করাতে পেরেছি। কিছুটা সুস্থ হয়ে না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে আছি।’

একাধিক কর্মকর্তা জানান, নগর ভবনে কর্মরত লিফটম্যান আব্দুর রহমানও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত। একই সঙ্গে আনসার সদস্য বাদশা মিয়া ও আলম মিয়াও ভুগছেন ডেঙ্গুতে। গত মাসে ডিএসসিসির সচিব মো. মোস্তফা কামাল মজুমদারও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ।

নগর ভবনের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নিচতলার ব্যাংক ফ্লোর মিলনায়তনের বাইরের অংশের এসির পানি শেওলা হয়েছে। সেখানে পানিও জমে আছে দীর্ঘদিন। একই অবস্থা ভবনের ষষ্ঠ তলায় খাবার হোটেলের পাশে। সেখানে বাইরের অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। নানা কৌটার মধ্যেও আছে জমা পানি। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এ ছাড়া নগর ভবন কম্পাউন্ডের দক্ষিণে দেয়াল ঘেঁষে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সেখানে পানি জমার মতো বিভিন্ন রঙের কৌটা আছে। এসব পানিতে এডিস মশা হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান তারা।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির অতিরিক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেট্রোরেলের কিছু নির্মাণসামগ্রী নগর ভবনের পেছনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এডিস মশার প্রজনন হতে পারে এমন কোনো আবর্জনা নেই।’ এসির পানিসহ অন্য সবকিছু নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।