ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

জেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে মুক্তিযোদ্ধাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় অর্ধশতাধিক আহত এবং বেশকিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। গত সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের বিলকেন্দুয়াই গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে রাতে একজন ও গতকাল মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন আরেকজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন চা দোকানদার মলাই মিয়া (৪০) এবং মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বিজিবি সদস্য আবদুর রউফ (৭০)।

স্থানীয়রা বলছেন, ১৫ বছর ধরে বিলকেন্দুয়াই গ্রামে একসময়ের বিএনপি নেতা বর্তমানে আওয়ামী লীগ সমর্থক আনোয়ার হোসেন এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু নসরের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দুপক্ষে পাল্টাপাল্টি অনেক মামলাও চলছে। গত ইউপি নির্বাচনে কালিসীমা ও নরসিংহসার গ্রামের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সমর্থন ও বিলকেন্দুয়াই গ্রামের ইউপি সদস্য নির্বাচন নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ চরমে পৌঁছে। এর জেরে কয়েকবার সংঘর্ষও হয়। গত ২০ জুলাই আবু নসরের পক্ষের একজনের ছেলেকে কোপানোর ঘটনায় মামলা ও এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়।

এ নিয়ে সালিশ চলার মধ্যেই গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হামলা-পাল্টা হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুরে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। এর মধ্যে আনোয়ারের সমর্থক দুধ মিয়ার ছেলে চা দোকানদার মলাই মিয়াকে মাথায় কোঁচবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হন। জেলা সদর হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। অন্যদিকে আবু নসরের সমর্থক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দুই হাত, নাক, পায়ের গোড়ালি ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পেয়েছিলেন। সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষের মধ্যে ওয়াসিম (২৫), জীবন (১৭), বারেক (৪০), আয়াতউল্লাহ (২৭), মোমিনুল হক (৪০), সাঈদ মিয়া (৬৫), এমরান খন্দকার (৩৫), নাজমুল (৩৫), ইয়ামিন (১৮), রুবেল (২৬), বাদশাহ (৩৫), লিটন (৩২), রাসেল (১৮), মাশুক (৩৫), মানিক (৩৫) ও লিটনকে (৩২) জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘দুপক্ষের পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষ। এলাকায় ৩০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’

গতকাল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দুই খুনের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে ডেকে এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখার উদ্যোগ নিতে বলেছি।’