নীলফামারীতে সাধারণ ওয়ার্ডে অন্যান্য রোগীদের সাথেই চলছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা। আবাসন সংকটের কারণে সাধারণ রোগীদের বিছানার পাশেই মশারি টানিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনজন রোগীতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
নীলফামারী সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্র জানায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে চারজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তিনজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং একজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
চিকিৎসারতরা হলেন জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুচিয়ার মোড় গ্রামের ভূষন রায়ের ছেলে পরিতোষ চন্দ্র রায় (২৮), ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে রেয়াজুল ইসলাম (২০) ও দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল লতিফ (৪৫)।
এর আগে ৩১ জুলাই সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আব্দুর রহিম (২৫)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে সাধারণ রোগীদের সাথে মশারি টানিয়ে চলছে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা।
এ সময় মশারির ভেতরে থাকা ডেঙ্গু রোগী আব্দুল লতিফ জানান, দীর্ঘ দিন থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় প্রাইভেটকার চালানোর কাজ করতাম। গত ১৮ জুলাই ছুটিতে বাড়ি আসি। এর পর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৫ জুলাই সকালে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকদের পরীক্ষা নিরীক্ষায় আমার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। গত সাত দিন থেকে এখানেই চিকিৎসা নিচ্ছি।
অপর রোগী পরিতোষ চন্দ্র রায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন গত ২৫ জুলাই। লেখাপড়া শেষে চাকরির প্রস্তুতির জন্য অবস্থান করতেন ঢাকায়। অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হলে ডেঙ্গু ধরা পরে তার।
একইভাবে ঢাকা থেকে ফিরেছে একটি কারখানার শ্রমিক রেয়াজুল ইসলাম। বাড়িতে এসে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩১ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হলে ডেঙ্গু ধরা পরে তার।
অপরদিকে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে মুদির দোকান রয়েছে আব্দুর রহিমের। সেখানে জ্বরে আক্রান্ত হলে ২৪ জুলাই নীলফামারীর বাড়িতে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৫ জুলাই। এরপর রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে চিকিৎসা শেষে গত বুধবার বাড়িতে ফিরেছে সে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু শফি মাহমুদ বলেন, এখন পর্যন্ত যে কজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা সবাই ঢাকাতেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ভর্তি হওয়া চার রোগীর মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। যে তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারাও আশঙ্কামুক্ত।
নীলফামারীর সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, ‘হাসপাতালে আবাসন সমস্যা থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা কোন ওয়ার্ড তৈরী করা সম্ভব নয়। তাই সাধারণ ওয়ার্ডে অন্যান্য রোগীদের বিছানার পাশেই মশারি টানিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অন্য কোন সমস্যা নেই। ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা হাসপাতালেই করা হচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, ‘ডেঙ্গু যাতে না ছড়ায় সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। জ্বর হলে সরকারি হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এলাকাবাসীকে।’