ফ্রি কোকা-কোলা না পেয়ে ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা!

বিনামূল্যে ২০ টাকার একটি কোকা-কোলার বোতল না দেওয়ায় তোফাজ্জল হোসেন নামে কোকা-কোলা কোম্পানির এক কাভার্ড ভ্যানচালককে বোতল দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার বালুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে শাজাহান নামে এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে মূল সন্দেহভাজন সুমন পলাতক। নিহত তোফাজ্জল হোসেন (৫০) শহরের খানপুর রেললাইন এলাকার বাসিন্দা। এক বছর ধরে তিনি কোকা-কোলা কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিস্ট্রিবিউশন শাখার গাড়িচালক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত তোফাজ্জলের সঙ্গে থাকা কোকা-কোলা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সৌরভ দেশ রূপান্তরকে জানান, চাষাঢ়ায় বিভিন্ন দোকানে মালামাল সরবরাহ করে কাভার্ড ভ্যান নিয়ে বালুর মাঠ এলাকায় প্রবেশ করেন তারা। ওই সময় রডের দোকান রাজা স্টিল মিলের সামনে ওই দোকানের কর্মচারী শাজাহান ও পাশের দোকান রায়হান স্টিল মিলের মালিকের ভাই সুমন তাদের গাড়িটি থামান। ওই সময় সুমন কাভার্ড ভ্যানের চালক তোফাজ্জলের কাছে বিনামূল্যে কোকা-কোলা পান করতে চান।

সৌরভ বলেন, তোফাজ্জলের কাছে যখন রডের দোকানের ওই দুই যুবক বিনামূল্যে কোক পান করতে চান, তখন তিনি বলেন তাদের কোম্পানি থেকে বিনামূল্যে কোক দেওয়া হয় না; এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। পরে সুমন ও শাজাহান মিলে কাভার্ড ভ্যান থেকে কোকা-কোলার বোতল নিয়ে তোফাজ্জলকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তোফাজ্জলকে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তোফাজ্জলের মরদেহ পান। তার দুই ছেলে শামীম ও সাকিব দেশ রূপান্তরকে জানান, তাদের বাবা নিরীহ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কখনোই কারও সঙ্গে কোনো ধরনের ঝগড়া-বিবাদে জড়ান না। সব সময় এগুলো এড়িয়ে চলতেন। তারপরও তার বাবাকে বোতল দিয়ে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। তারা বাবার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।

সদর মডেল থানার এসআই রিপন আলী খান জানান, নিহতের শরীরে বোতল দিয়ে পিটিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন দুজনের মধ্যে একজনকে আটক করা হলেও সুমন এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

সদর মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, আটক শাজাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া এ ঘটনার মূল সন্দেহভাজন সুমনকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে কোকা-কোলা কোম্পানির পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।