চসিকের মশক নিধন নিয়ে অসন্তোষ

চট্টগ্রাম নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম চালাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা বিভাগ। ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে গত ১৫ জুলাই থেকে চসিক কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বিভাগটি। তবে নগরবাসীর মধ্যে অনেকে এ মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নগরের বিভিন্ন স্থানে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হলেও অনেক বাসা-বাড়ির আশপাশে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা যেখানে মানুষের আনাগোনা আছে, সেখানে লোক দেখানো ওষুধ ছিটিয়ে চলে আসছে। যদিও চসিক কর্র্তৃপক্ষ বলছে, রুটিন অনুযায়ী নগরের সবখানেই ওষুধ ছিটানো হবে।

নগরের শুলকবহর ওয়ার্ডের আবদুল্লাহ খান লেনের মাহবুব আলম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুয়েক দিন আগে সিটি করপোরেশনের দুজন কর্মচারী কামান ও ফগার মেশিন নিয়ে আমাদের এলাকায় ওষুধ ছিটাতে আসছিল। তারা সামনের দিকে কিছু নালা ও বাসা-বাড়ির আশপাশে ফগার মেশিনের ধোঁয়া দিয়ে চলে গেছে। গলির ভেতরে থাকা নালা ও বাসা-বাড়ির আশপাশে লিকুইড ওষুধ ছিটায়নি। অনেকটা লোক দেখানো ওষুধ ছিটিয়ে চলে গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন।’

একইভাবে বাড়াইপাড়া এলাকার রিদোয়ান আহমেদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের এলাকার কয়েক জায়গায় ওষুধ ছিটায় বলে শুনেছি। কিন্তু আমাদের বাসা-বাড়ির আশপাশে আসেনি। এমনিতে প্রতিনিয়ত চাক্তাই খালের ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের পাশাপাশি এই এলাকায় মশার উপদ্রবও বেশি। শিগগিরই মশার উপদ্রব কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

মশক নিধনে গত ১৫ জুলাই থেকে চসিকের বিশেষ ক্রাশ পোগ্রামের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। ওই সময় মেয়র বলেছিলেন, ‘এবার ২ কোটি টাকায় ২৫ হাজার লিটার এডাল্টিসাইড (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী ওষুধ), ১০ হাজার লিটার লার্ভিসাইড (মশার ডিম ধ্বংসকারী ওষুধ) কেনা হয়েছে। বর্তমানে নগরের ৪১ ওয়ার্ডে ১৬১ জন স্প্রেম্যান ওষুধ ছিটানোর কাজ করছেন। বর্তমানে চসিকের ১১০টি জার্মানি ফগার মেশিন ও ৩৫০টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিন রয়েছে।’

মশক নিধনে যেসব ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তা কতটুকু কার্যকর, জানতে চাইলে চসিকের ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফগার মেশিন দিয়ে যেই ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, তা কার্যকর মনে হয়েছে। তবে লিকুইড যে ওষুধটি ছিটানো হচ্ছে, তা তেমন কার্যকর নয়।’

জানতে চাইলে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান ছিদ্দিকী যিশু বলেন, ‘মশক নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চলমান রয়েছে। নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৩-৪ জন করে মোট ১৬১ জন স্প্রেম্যান ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। লার্ভিসাউড ও এডাল্টিসাইড ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। লিকুইড ওষুধগুলো ভারত থেকে আমদানি করে চার দফা পরীক্ষার মাধ্যমে ছিটানো হচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো স্প্রেম্যান লোক দেখানো ওষুধ ছিটিয়ে থাকে, তাহলে নিজ নিজ এলাকার কাউন্সিলরদের জানাতে হবে। কাউন্সিলররাই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন। মশক নিধনে নগরজুড়ে ওষুধ ছিটানো হবে, পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে।’