মুসলমান ঘরের মেয়ে প্রেমে পড়েছিল সাঁওতাল ছেলেটির। প্রাপ্তবয়স্ক দুই নরনারী নিজেদের মতো করে চেয়েছিল বাঁচতে। ধর্মান্তরিত হয় মেয়েটি। বিয়েও হয় তাদের।
তবে তাদের বিয়ে মেনে নেয়নি কেউ। দুই পরিবার ও সমাজ থেকে আসে প্রবল বাধা। হয় বিতণ্ডা। সালিস-পুলিশ করেও আদায় হয়নি স্বীকৃতি। অভিমানে আত্মহত্যার পথই বেছে নেয় মেয়েটি।
জয়পুরহাটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে রুবী (২৫)।
শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার গুনখুর তাজপুর এলাকায় রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুবী সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ চকমোহন ঢিবাপাড়া এলাকার মামুনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও মোহাম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, দু’মাস আগে চকমোহন এলাকার সাঁওতাল সুবাস পাহানের ছেলে অজিত পাহানের সঙ্গে একই এলাকার মুসলিম পরিবারের মামুন হোসেনের মেয়ে রুবীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক দিন আগে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা গোপনে বিয়ে করে। বিয়েকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ১২টার সময় উভয় পক্ষে বিয়ে মানা না মানা নিয়ে বাদানুবাদ হয়। দুই পক্ষের সমাজও মেনে নেয় না তাদের সম্পর্ক।
আতাউর রহমান আরো বলেন, স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করে মেয়েকে মেয়ের বাড়ি ও ছেলেকে তার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। তারপর বিকেল ৫টার দিকে খালার বাড়ি পুরানাপৈলে যাওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে ভোরের দিকে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।
জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জিআরপি পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।
এ দিকে সান্তাহার জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে নিহত রুবীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।