নরসিংদীতে বুকে জোড়া লাগা শিশু, শঙ্কায় পরিবার

নরসিংদীতে পেট ও বুক জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। গত মাসের শেষ সপ্তাহে জন্ম নেওয়া শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে দরিদ্র পরিবারটি। অর্থাভাবে হাসপাতালে না নিয়ে বাসাতেই চলছে দুজনের পরিচর্যা। জেলার সিভিল সার্জন বলছেন, শিশু দুটির সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যদি আলাদা থাকে, তাহলেই তাদের বাঁচানো সম্ভব। তবে সে জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করতে হবে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইসমাইল হোসেন-সুমি আক্তার দম্পতির ঘরে আসে দুই ছেলে যমজ সন্তান। শিশুদের মাথা ও কাঁধের নিচ থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগানো। শিশু দুটির নাক, কান ও মুখসহ মাথা সম্পূর্ণ আলাদা। খাবারও খাচ্ছে আলাদাভাবে। চার দিন হাসপাতালে রাখার পর শিশুদের নানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

নানি নাসিমা বেগম জানান, জোড়া যমজ হওয়ার খবরে প্রতিদিনই নানা ধরনের লোকজন বাড়িতে আসছে। এখন তারা ভয়ে আছেন। চিকিৎসা না করিয়ে বাসায় কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশু দুটিকে ভর্তি করিরে রাখে কি না, সেই ভয়ে বাসায় রেখেই স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

বাবা ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘আল্লাহ আমারে যমজ দুইটা জট সন্তান দেওয়ায় আমি খুশি; আমি তাতে নারাজ না। আল্লাহ তায়ালা ভালো বুঝেই হয়তো পাঠাইছেন। তবে আমার যে আর্থিক অবস্থা, তাতে এই সন্তানদের সুচিকিৎসা আমার জন্য বড়ই কঠিন। কারণ আমার কোনো অর্থসম্পদ নাই। শিশু দুইটাকে আলাদা করতে না পারলে খুব কষ্ট হবে। তাই দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।’

অস্ত্রোপচারের পর খানিকটা অসুস্থ শিশুদের মা সুমি আক্তার। তিনি জানান, তার বাবা রিকশাচালক। স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। এই সন্তানদের আলাদা করতে যে অর্থ লাগবে, তা তাদের নেই। তিনি সন্তানদের আলাদা করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

নবজাতকদের নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। তাদের একজন রায়পুরা ডৌকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ ফরাজি। তিনি বলেন, ‘পরিবারটা খুবই দরিদ্র। তাই আমরা খুব উদ্বিগ্ন। কীভাবে তাদের চিকিৎসা হবে? আমরা স্থানীয়ভাবে শিশু দুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছু সহায়তা করছি। সরকারিভাবে সহায়তা পেলে শিশুগুলোকে বাঁচানো সম্ভব।’

নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আমিরুল হক শামীম বলেন, ‘শিশু দুটিকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদের আলাদা করা প্রয়োজন। শিশু দুটির অরগান (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) যদি আলাদা আলাদা থাকে, তাহলে তাদের বাঁচানো সম্ভব। তবে সে জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) স্থানান্তর করতে হবে। তবে এজাতীয় চিকিৎসায় অনেক খরচ। প্রয়োজনে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আর্থিক সহায়তা করা হবে।’