স্বীকৃতি না পাওয়া মুসলিম তরুণীর আত্মহত্যা

ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন শরীয়তপুরের ব্রাহ্মণ মেয়ে সুস্মিতা দেবনাথ অদিতি ও হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলে তুষার দাস। কিন্তু জাত-পাতের বিভেদে মেয়েটির পরিবার মেনে নেয়নি সম্পর্ক। ছেলেটির বিরুদ্ধে করে অপহরণের মামলা। ১৪ বছরের কারাদণ্ড হয় তুষারের। তবে স্ত্রীর চেষ্টায় দুই বছরের বেশি সময় পর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের আদেশে জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন তুষার। ফিরে যাচ্ছেন স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে জয় হয়েছে অদিতি-তুষারের ভালোবাসার।

এদিকে ব্রাহ্মণ-হরিজন প্রণয়ের জয়ের এক দিন পরই অকালপ্রয়াণ ঘটেছে জয়পুরহাটের মুসলিম তরুণী রুবী আর সাঁওতাল যুবক অজিত পাহানের প্রেমের। মাস দুয়েক আগে সদর উপজেলার চকমোহন এলাকার সাঁওতালপল্লীর সুবাস পাহানের ছেলে অজিত পাহানের সঙ্গে মন দেওয়া-নেওয়া হয় একই এলাকার মামুন হোসেনের মেয়ে রুবীর। সে খবর হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। প্রেম বাঁচাতে কয়েক দিন আগে গোপনে বিয়েও করেন তারা। এই বিয়ে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের মধ্যে বাধে গণ্ডগোল। পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করে সালিশের মাধ্যমে রুবী ও অজিতকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রুবী। ওইদিন বিকেলে খালার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। গতকাল শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার গুনখুর তাজপুর এলাকায় রেললাইনে পাওয়া যায় রুবীর মরদেহ। 

পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, অজিত পাহানের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার অভিমানে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন তিনি। আর সেজন্য বেছে নিয়েছেন রেললাইন।

মোহাম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, রুবী-অজিতের প্রেম মেনে নেয়নি কোনো পক্ষই। তাই গোপনে বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু সেখানেও জটিলতা বাড়ায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে সদর থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।

সান্তাহার জিআরপি থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে রুবীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।