ঈদে সবাই বাড়ি যাবেন কিন্তু সতর্ক থাকবেন : কাদের

ডেঙ্গু নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কম কথা বলে কাজ বেশি করার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘এই সময় অতি কথা দেশের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে। অতি কথন থেকে দায়িত্বশীল সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ গতকাল শনিবার ঢাকার ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলির সময় তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কথা কম বলব, কাজ করব। এই সময়টি

অত্যন্ত সংবেদনশীল। কথা কম বলে আমাদের বেশি বেশি কাজ করতে হবে। মানুষকে বাঁচাতে হবে, আতঙ্ক থেকে বাঁচাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা মহল আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, যেন ঈদের সময় বাড়ি-ঘরে না যায়। বাড়ি-ঘরে কেন যাবেন না, সবারই ইচ্ছা আছে পরিবার-পরিজন নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার। সবাই বাড়ি যাবেন, কিন্তু সতর্ক থাকবেন। এটা হলো আমাদের অনুরোধ। ডেঙ্গু সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন।’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা কাজ করে না। তারাই আজকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যারা বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় না, তারাই বন্যাদুর্গতদের নিয়ে রাজনীতি করে। যত দোষ নন্দ ঘোষ, সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপায়।’

দল হিসেবে বিএনপিরও ডেঙ্গু দমনে দায়িত্ব আছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে দল হিসেবে বিরোধী দলেরও এখানে দায়িত্ব আছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কোথাও তারা নেই। তারা কখনো বলে মহামারী ঘোষণা কর, কখনো বলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা কর। জরুরি অবস্থা তাদের দরকার যারা জরুরি সংকটে আছে।’

তিনি বলেন, ‘দেড় বছরেও খালেদা জিয়ার জন্য দেড় মিনিট আন্দোলন করতে পারেনি। বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণে ব্যর্থ। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ব্যর্থ। তাদের জন্যই আজকে জরুরি অবস্থা দরকার। দেশের মানুষ কাজ চায়, দেশের মানুষ নাম চায় না, কী নামে অভিহিত করব।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে ডেঙ্গু এবং এডিস মশা প্রতিরোধ করতে যে কর্ম তৎপরতা করেছে, আজকে আমরা এটাকে একটা লড়াই হিসেবে বেছে নিয়েছি। ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নির্দেশ। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ এই অঙ্গীকারে আমরা নেমেছি। গতকাল (শুক্রবার) আমরা বিএমএ এবং স্বাচিপের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সারা বাংলাদেশে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। সারা বাংলাদেশের সর্বত্রই এই মনিটরিং সেল ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা, শনাক্তকরণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে কি না। কোনো অবহেলা হচ্ছে কি নাÑ এসব বিষয় দেখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই সেল গঠন করা হয়েছে। আমরা বৈঠক করেছি, আজকের (শনিবার) বৈঠক চূড়ান্ত রূপ নেবে। যতদিন না পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারব, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানাক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা উত্তর সিটির করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।