জন্মদিনের সব আয়োজন সম্পন্ন করে কেক কাটার আগ মুহূর্তে আট বছর বয়সের মুহিনের লাশ পেয়ে শোকে হতবাক হয়ে গেছেন শিশুটির বাবা-মা আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশীর।
‘বাবা, আমার জন্মদিনে নতুন জামা কিনে দিবা না? কেকটা যেন বড় হয়। জন্মদিনে নানি-মামারা আসবে না? কাকে কাকে দাওয়াত দিবা? আমার বন্ধুদের সবাইকে আসতে বলব কিন্তু। বেশি করে বেলুন কিনে আনবা...।’ নিজের জন্মদিনকে ঘিরে শিশু মুহিন ইসলামের আগ্রহের যেন শেষ ছিল না! সপ্তাহখানেক ধরে সে বারবার এসব কথা বাবা-মাকে বলছিল।
রংপুরের মুহিন ইসলামের জন্মদিন ছিল শনিবার। কেক কাটার আগে তার লাশ পাওয়া যায় বাড়ির কাছে।
ঘটনাটি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া গ্রামের। মুহিন জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা ময়নুল ইসলাম পেশায় কৃষক। মা মণি বেগম গৃহিণী। দুই ছেলের মধ্যে মুহিন বড়।
রোববার সকালে গ্রামটিতে ঢুকেই শোকার্ত পরিবেশটা টের পাওয়া যায়। বাড়ির বারান্দায় মুহিনের ছোট্ট নিথর দেহ সাদা কাপড়ে মোড়ানো। মানুষে গিজগিজ করছে গোটা বাড়ি। কাঁদতে কাঁদতে মা মণি বেগমের চোখের পানি যেন ফুরিয়ে গেছে। বিড়বিড় করে বারবার বলছিলেন, ‘আমার বাবা (মুহিন) কোথায়? ও তো খায়নি। ডাকো। তাড়াতাড়ি কেকটা কাটো।’
বাবা ময়নুল ইসলাম ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়েছিলেন সবার মুখের দিকে। প্রতিবেশী বিপ্লব সরকার বলেন, ছেলেকে হারিয়ে ময়নুল নির্বাক হয়ে গেছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, মুহিনদের বাড়ি থেকে ১০০ গজের মধ্যে বাচ্চু মিয়ার আবাদি জমির দুই শতকের মাটি খুঁড়ে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ায় সেখানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় ওই গর্তে গলা পানি জমেছে। প্রতিবেশীদের ধারণা, গর্তের কাছ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পা ফসকে মুহিন পড়ে ডুবে যায়।
জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিপদ রায় বলেন, ‘মুহিনের অকালে চলে যাওয়ার ঘটনাটি আমরা শিক্ষকেরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।’