চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে কর্মশালা

প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চান শিল্পমন্ত্রী

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযুক্ত জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণে গুরুত্ব আরোপ করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী বাহিনী তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে হবে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) ও এটুআই আয়োজিত ন্যাশনাল কনসালটেশন অন ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন অ্যান্ড ফিউচার অব ওয়ার্ক শিরোনামের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, দেশে নতুন নতুন আধুনিক শিল্পকারখানা স্থাপন হচ্ছে। কারখানাগুলোয় এ দেশের প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। বেসরকারি খাতে দক্ষ কর্মীদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও প্রশিক্ষণ দানে সহায়তার জন্য বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানান শিল্পমন্ত্রী।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান বলেন, পাঠ্যক্রমে আইসিটি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান বাড়ছে। চতুর্থ বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে রোবটিকসহ নতুন নতুন বিষয় চালু হবে বলে তিনি জানান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এটুআইর পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী ও ইউনিডোর আঞ্চলিক প্রতিনিধি ভ্যান বারকেল রেনে।

আনির চৌধুরী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে আগামী ২০ বছরে দেশে শ্রম খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এতে তৈরি পোশাক ও ফার্নিচার শিল্প এবং চামড়া ও পর্যটন খাতে ৫৫ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। এ ক্ষেত্রে স্বল্প শিক্ষিত নারী শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

ভ্যান বারকেল রেনে বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সময় মানুষ ও যন্ত্র টিমমেট হিসেবে কাজ করবে। এতে শক্তি ও জনশক্তির ব্যবহার কমবে। কাস্টম-মেড পণ্য কম খরচে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজিবিষয়ক) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আগামী দিনের চাহিদা অনুসারে শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।