নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন: সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ন মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

সোমবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে মামলার একমাত্র আসামি সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন বিচারক।

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু দেশ রূপান্তরকে জানান, এই মামলায় গত ৩ জুলাই ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ১০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরদিন অভিযোগের ওপর আদালতে শুনানি হয়। সেদিন মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম জানান, গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ (বর্তমানে বরখাস্ত) সিরাজ-উদ-দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ সিরাজকে আটক করে। পরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সিরাজ নুসরাতকে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে। হত্যা মামলায় সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে জবানবন্দিতে ২৭ মার্চ যৌন হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করেছে।’

নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারকসহ ৭৫ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন : নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গতকাল সোমবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমদের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত বাদীসহ ৭৫ জনের সাক্ষগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার পুলিশ সদস্য মো. সামছুর রহমান, মো. আল আমিন শেখ, মো. ময়নাল হোসেন, মো. নুরুল করিম, মো. জুয়েল মিয়া, সন্তোষ কুমার চাকমা ও মো. হায়দার আলী আকনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার দিন ধার্য করেছে আদালত।

সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (পরে বরখাস্ত) সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এতে অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়েন নুসরাত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল সকালে ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে নুসরাতের গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী কয়েকজন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে পাঁচ দিন পর মৃত্যু হয় তার।