ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সরকারি (সদ্য সরকারি ঘোষিত) কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লঙ্ঘন এবং তথ্য গোপন করে চাকরি নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের এমপিও কেন বাতিল করা হবে না, এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে মাউশি। গত ৩০ জুলাই মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩) ফারহানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এই কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে ২০১৭ সালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন কজন অভিভাবক। অভিযোগটি তদন্ত করতে দুদক ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেয়। মাউশি বিষয়টি তদন্ত করে ২০১৮ সালে ২০ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তকালে কর্র্তৃপক্ষ অধ্যক্ষ আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ আবদুর রহিম বাঞ্ছারামপুর কলেজে অধ্যক্ষ পদে আবেদন এবং যোগ দেওয়ার সময় পূর্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর এমএ রউফ ডিগ্রি কলেজে সাময়িক বরখাস্ত থাকা এবং এ বিষয়ে মামলা চলমান থাকার বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। অধ্যক্ষ পদে যোগদানকালে আগের কলেজের ছাড়পত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আবদুর রহিম বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় আগের কলেজের ছাড়পত্র জমা দেননি। যোগ দেওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পর আগের কলেজের ছাড়পত্র জমা দেন, যা বিধিসম্মত হয়নি। ২০১৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে অনেক বিষয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।