ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলো। তাদের মতে, জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতা, মশার ওষুধ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতি এবং অদক্ষতার কারণেই ডেঙ্গু নিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এসব দলের শীর্ষ নেতাদের অভিমত, ডেঙ্গুর প্রকোপ এবং মশা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র যা করছেন তাতে জনরোষ বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দূর করতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ১৪ দলের শরিকদের পাশে পেতে চায়। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৫ দিন আগেই লন্ডন থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমকে দায়িত্ব দিয়েছেন শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে। আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের শীর্ষ একাধিক নেতা বলেছেন, গত ১০ দিনে ওবায়দুল কাদের ও নাসিম শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেও সমস্যার সমাধান করতে পারেননি।
আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১ আগস্ট থেকে ৩ আগস্ট তিন দিনব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে ১৪ দলের নেতাদের থাকার অনুরোধ করা হলেও তারা কেউই আসেননি। শরিক দলের নেতারা বলেছেন, বিগত ১০ বছর ধরে তারা সরকারের বিভিন্ন বিপদে-আপদে পাশে থেকে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি। তাছাড়া সরকারের এত ব্যর্থতার দায় তারা নিতে পারবে না। ফলে আওয়ামী লীগ দলগতভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও অনেক অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটেছে। মন্ত্রীদের ঝাড়ু দেওয়া ও মেয়রদের বক্তব্য নিয়ে জনগণের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে মেয়র সাঈদ খোকনের বক্তব্যে তার দলের নেতাকর্মীরাও বিরক্ত। তাদের কর্মসূচি সফল হয়নি। তার ওপর শরিকরা পাশে নেই। প্রধানমন্ত্রী চান শরিকদের নিয়ে রাজনৈতিক একটি গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ।
মোহাম্মদ নাসিম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। আজ থেকে ১৪ দল সমন্বিতভাবে ডেঙ্গু সচেতনতায় মাঠে নামবে। গতকাল ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।
১৪ দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান রাশেদ খান মেনন ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সিটি করপোরেশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের প্রতি তাদের কোনো ধরনের দায়িত্ব নেই। সরকারের এত বড় দায় তো আমরা নিতে পারব না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তায় মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সিটি করপোরেশনের দুর্নীতি আর মেয়রদের অদক্ষতার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর থেকেই আমরা দলগতভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছি। আর আজ থেকে ১৪ দলের কর্মসূচিতে অংশ নেব। এর অর্থ এই নয় যে, সরকারের সমালোচনা থেকে সরে আসব। আমরা আমাদের দলীয় কর্মসূচিও পালন করব।
১৪ দলের আরেক অন্যতম শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মন্ত্রী ও মেয়রদের বক্তব্য এবং তাদের কর্মসূচি এখন জনগণের হাসির খোরাক হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই কর্মসূচি পালন করছি দলের পক্ষ থেকে।
সাম্যবাদী দলের প্রধান দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দুই মেয়র আর মন্ত্রীর গলাবাজিতে মানুষ ভীষণ বিরক্ত। তাদের ওপর আমরা মোটেও খুশি না। কারণ একটা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে যে ধরনের উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন সেটা এদের নেই। এদের সব কথাই জনগণের কাছে হাসির এবং অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছে। সময়মতো কোনো কাজই তারা করতে পারেনি। তিনি বলেন, তারপরও আমরা আজকের কর্মসূচিতে অংশ নেব।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনের পর হিসাবনিকাশ নিয়ে শরিক দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায় তারা আজ থেকে জোটগত কর্মসূচিতে নামবে। তবে আগের মতো আন্তরিকতা নেই জোটে।