মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদল। দলটির সদস্যরা মনে করছেন, মশা বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন মশার উৎপত্তিস্থলে।

গতকাল সোমবার বিকেলে নগর ভবনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা, উপপ্রতিনিধি ডা. এডউইন সালভেদর, কমিউনিকেবল ডিজিস অ্যান্ড সারভাইভাল মেডিকেল অফিসার ডা. মায়া সাপল নগোন, টেকনিক্যাল অফিসার ডা. ভূপেনন্দার নাগপাল, ডা. সাবেরা সুলতানা প্রমুখ। এর আগে দুপুরে নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে ওয়ার্ড ডেঙ্গু প্রতিরোধ সেলের সমন্বয়ের লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়।

মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, মশার নতুন ওষুধ ঢাকায় চলে এসেছে। এ ওষুধ আনার পর মঙ্গলবার সবার সামনে পরীক্ষা করা হবে। সব সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, সামনে ঈদ, আপনারা যারা ঈদে বাড়ি যাবেন, অন্তত একজন আত্মীয় রেখে যাবেন। যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা বাসায় গেলে সহযোগিতা পায়, তারা

পরিষ্কার করে দিয়ে আসতে পারে। আমাদের কর্মীরা যদি বাসায় গিয়ে বন্ধ পায় তাহলে বদ্ধ ঘরে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে।

দুপুরে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় ডিএসসিসির মেয়র বলেন, আমরা একটা সংকটময় মুহূর্তের মধ্যে পার হচ্ছি। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সরকারের সব বিভাগ, সব সংস্থা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা লক্ষ করছি আমাদের জনগণ ক্রমেই সচেতন হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দুটো জিনিস জরুরি। একটি হচ্ছে সংস্থার উদ্যোগ। যদি দুর্বলতা থাকে সেটি কাটিয়ে ওঠা এবং সর্বশক্তি নিয়োগ করে আমাদের মাঠপর্যায়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। এর সঙ্গে জনগণের সচেতনতা এবং অংশ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসির ১০টি জোনে মশক নিধন কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ডিএসসিসির ওই ১০টি জোনে কাজ করছে ১০টি টিম, যাদের সঙ্গে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭৫ কর্মকর্তা।