ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ফেনীর সোনাগাজী থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জামিনের জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে
ফের হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। গত সপ্তাহে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মোয়াজ্জেমের আইনজীবী রানা কাওছার।
এর আগে এই মামলায় বিচারিক আদালতে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর জামিন পেতে গত ২ জুলাই হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। আবেদনটি ৯ জুলাই উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি মোবাইলে ভিডিও করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে গত ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১৭ জুলাই ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামশ জগলুল হোসেন অভিযোগ গঠন করেন। মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (পরে বরখাস্ত) সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এতে অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়েন নুসরাত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল সকালে ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে নুসরাতের গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী কয়েকজন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ার পর মৃত্যু হয় তার।
এর আগে গত মার্চ মাসে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ করার পর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি মোবাইলে ভিডিও করেন। এরপর তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে, যা পিবিআইয়ের তদন্তেও উঠে আসে। নুসরাত হত্যা মামলায় ফেনীর সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। পাশাপাশি নুসরাতকে যৌন হয়রানির মামলায় গতকাল ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়েছে।