কিছুদিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের অন্যতম আনন্দ কোরবানির পশুর মাংস খাওয়া। ভোজন রসিক আমরা যেন অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে খেয়ে ফেলি, আর তখনই হতে পারে শারীরিক নানা সমস্যা। মাংসের স্বাদ নিতে ও খেতে প্রথমে সেটা মুখ গহ্বরে নিতে হয়। কিন্তু মুখের অভ্যন্তরের অবস্থা যদি দুর্বল বা রোগাক্রান্ত থাকে তাহলে ঈদটি নষ্ট হতে পারে অসহনীয় কষ্টে। সচেতন হতে নিতে হবে প্রস্তুতি :
যাদের দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে
বয়স বাড়ার সঙ্গে দাঁতের মধ্যকার ফাঁকাগুলো বাড়তে পারে, আবার অনেকের মাড়ির শেষ দাঁত বা আক্কেল দাঁতটি বাঁকা হয়ে উঠে পাশের দাঁতের সঙ্গে লুকায়িত স্থান তৈরি হতে পারে, দুই দাঁতের মধ্যকার পৃষ্ঠে ক্যারিজ বা গর্ত তৈরি হতে পারে, ফিলিং বা ক্যাপের পাশের দাঁতের সঙ্গে সংযুক্ত স্থানটি নষ্ট হওয়া ইত্যাদি নানা কারণে দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে। খাবারটি যদি আঁশযুক্ত মাংস হয় তবে তা দাঁতের ফাঁকে জমে মাড়িতে প্রদাহ বা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ফলে মাড়ি ফুলে গিয়ে ব্যথা করে বা রক্ত পড়ে, অনেক সময় দাঁতটি নড়েও যেতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে মাংস খাওয়ার আগেই সংগ্রহ করে রাখুন বাজারজাত ডেন্টাল ফ্লস নামক বিশেষ সুতা। বিদেশি প্রস্তুতকারক কোম্পানির পাশাপাশি দেশীয় মেডিপ্লাস কোম্পানি এই ফ্লস মার্কেটে সরবরাহ করে। প্রয়োজনে ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ সংগ্রহে রাখতে পারেন, তবে অবশ্যই এগুলোর সঠিক ব্যবহার জেনে নিতে হবে। টুথপিক, কাঠি বা কোনো ধাতব দ- ব্যবহারকে শক্তভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। পোভিডন আয়োডিন ১%, মাউথ ওয়াশ হিসেবে অনেক ফার্মাসিটিক্যালস বাজারজাত করছে, সংগ্রহে রেখে কুলি করলে প্রদাহের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
দাঁতে গর্ত
দাঁতের মধ্যে বা দুই দাঁতের সংযোগ পৃষ্ঠে ক্যারিজ হলে দ্রুত ফিলিং করাতে হবে। তা না হলে শক্ত হাড় খেতে গেলে ঘটতে পারে বিপদ। দাঁত ভেঙে ব্যথা হতে পারে, দুই অংশে আলাদা হতে পারে এমনকি শিকড় থেকে ভাঙতে পারে। তাই গর্ত অনুভব হলে ঈদের আগেই ফিলিং করিয়ে নিয়ে আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করুন ঈদ। কোনো দাঁতে ব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রুট ক্যানেল ও ক্ষেত্র বিশেষে ক্যাপ বা
কৃত্রিম মুকুট লাগিয়ে নিন।
রুট ক্যানেল চিকিৎসাকৃত দাঁত
দাঁতের সংক্রমণ মজ্জা ছুলে রুট ক্যানেল চিকিৎসার বিকল্প নেই। রুট ক্যানেল চিকিৎসা শেষে দাঁতের কষ্ট আর থাকে না। অনেকেই উদাসীনতা বা খরচের কথা ভেবে রুট ক্যানেল শেষে মাড়ির দাঁতে আর প্রতিরক্ষা ক্যাপ বা কৃত্রিম মুকুট লাগান না। রুট ক্যানেল করা দাঁতের ইলাস্টিসিটি ও পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় দাঁতটি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে নরম হাড় চিবাতে গিয়েও দাঁতটি ভেঙে যেতে পারে। তাই অবশ্যই আয়েশ করে খেতে চাইলে অনুমোদিত চিকিৎসকের পরামর্শে এমন দাঁতে ক্যাপ লাগিয়ে নিন।
মাড়ির রোগ
যাদের মাড়ি ফুলে আছে, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে, দাঁত নড়ে ইত্যাদি নানান দাঁতের ধারক কলা রোগে ভুগছেন, তারা ঈদের আগেই চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবস্থা নিন, নয়তো ঈদের আনন্দ নষ্ট হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঈদের ছুটিতে রোগীদের নির্ধারিত চিকিৎসকদের চেম্বার বন্ধ থাকে। ফলে দাঁত বা মাড়ির কোনো সমস্যায় রোগীকে কষ্টে ভুগতে হয়। দাঁতের অবস্থা বুঝে দাঁতকে ব্যবহার করলে অনেক অনাকাক্সিক্ষত বিষয় এড়ানো সম্ভব।