র‌্যাবের অনুসন্ধানে আনসার আল ইসলামের তৎপরতা

উগ্রবাদী ভিডিও বাংলায় ডাব করে জঙ্গিবাদে দীক্ষা

বাংলাদেশে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল ইসলাম ‘দি রিলিজ’ নামে একটি বিদেশি চলচ্চিত্রের বাংলা ডাবিং শুরু করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বাহিনীর অনুসন্ধান অনুযায়ী, সংগঠনের কিছু সক্রিয় সদস্য চলচ্চিত্রটির তরবারি যুদ্ধের চুম্বকাংশ বাংলায় ডাবিং করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করছে। ২০ থেকে ২২ সদস্য রয়েছে ওই দলে। এদের মধ্যে নারীও রয়েছে।

র‌্যাবের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গিদের ফাঁদে পড়ে ঘর ছাড়ছে অনেক অবিবাহিত নারী। এদের মূল উদ্দেশ্য উগ্রবাদী ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া। এরই মধ্যে এই দলের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবিটি ডাবিং করতে অর্থের জোগানদাতাকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রুপের হোতা সহিফুল সাইফকে (৩৩) গ্রেপ্তার করলে অর্থের জোগানদাতাকে শনাক্ত করা যাবে বলে মনে করছে র‌্যাব।

গত বুধবার রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মীর ইব্রাহিম (২৫) ও মো. হেমায়েত উদ্দিন (২২) নামে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা আরও ১০-১২ জন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে র‌্যাব। ওই দুজনের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও ডাবিংসামগ্রী উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি।

র‌্যাবের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সম্প্রতি জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্যরা সহযোগী সদস্যদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত উগ্র ইসলামি জঙ্গিবাদী ও জিহাদি বই, ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার নামে যুদ্ধপীড়িত দেশের যুদ্ধের ভিডিও প্রচার করছে। ধর্মীয় উগ্রবাদী মনোভাবসম্পন্ন যুবক-যুবতীদের ‘দি রিলিজ’ নামের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের তরবারি যুদ্ধের চুম্বকাংশ বাংলায় ডাবিং করে (নতুন করে কণ্ঠজুড়ে) উগ্রবাদী আচরণ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে ধীরে ধীরে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করছে। যুবতীদের যুদ্ধরত সৈনিকদের সেবা-শুশ্রƒষার জন্য নিয়োজিত করার অভিনয় করানো হচ্ছে। এই ডাবিংকৃত ভিডিও আবার ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী র‌্যাব-২-এর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল ইসলামের একটি গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী ভিডিও ছড়িয়ে কর্মী সংগ্রহ করছে। আর এই ভিডিও তৈরি করতে তারা অনেক নারী সদস্যকে ব্যবহার করছে। তাদের ফাঁদে পড়ে অনেক নারীই ঘর ছাড়ছে। এরা বাসা থেকে পালিয়ে এসে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে মাদ্রাসায় ভর্তি হচ্ছে হিফজ শিখতে।’

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে এই জঙ্গিগোষ্ঠী ‘দি রিলিজ’ নামের একটি বিদেশি চলচ্চিত্রের ডাবিংয়ের কাজ করছে। ২০ থেকে ২২ জন সক্রিয় রয়েছে এই কাজে। তারা জিহাদের জন্য বিভিন্ন উগ্র জঙ্গিবাদী বই, লিফলেট, ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া যেমনÑ ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো, টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রেরণ করে, মোবাইল ফোনে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে। হোয়াটস অ্যাপ, ইমো, ফেইসবুক মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামের ভয়েস কলের মাধ্যমে একে অপরের মধ্যে কথোপকথনের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে উগ্র ধর্মীয় জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে নিষিদ্ধঘোষিত আনসার আল ইসলামে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের দিয়ে হামলা ও নাশকতায় অংশগ্রহণের জন্য প্ররোচিত করে আসছে।”

গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে নিখোঁজ আনসার আল ইসলামের সদস্য জান্নাতুল নাঈমা, সাইফা আক্তার তানজি ও আফজাল হোসেনকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ১২ জুলাই আলেমা আক্তার স্বপ্না ওরফে উম্মে ইউসা ওরফে উম্মে ইয়াসিকে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার মধ্য করপাড়া সাকিন থেকে গ্রেপ্তার করে।