জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলে প্রতিটি ঘটনার প্রতি নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। গত সোমবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আদেশের পর সংসদে ‘জম্মু-কাশ্মীর সংরক্ষণ বিল’ প্রস্তাব উত্থাপন করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাস হয়। এরপর জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য ও ভেটো ক্ষমতাধর পাঁচটি দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতদের কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন। অন্য রাষ্ট্রের দূতদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবরা ব্রিফ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ব্রিফিং শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। দূত ও কূটনীতিকদের সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তবে পাকিস্তান এই তালিকায় ছিল না।
কাশ্মীর ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ওই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও ভারত ও পাকিস্তানকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, কাশ্মীরে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আমরা চিন্তিত। কাশ্মীরে ভারতের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে আমরা সতর্ক আছি।
কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল এক বৈঠক ডাকে অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর গতকাল জানিয়েছে, জেদ্দায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ভারতের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের বিরোধপূর্ণ ‘স্ট্যাটাসের’ পরিবর্তন ভারত সরকার একতরফাভাবে করতে পারে না। কারণ, ওই অঞ্চলের ‘মর্যাদা’ কী হবে তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে উল্লেখ করা আছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের কাছে এই সিদ্ধান্ত কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।’
বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফোনালাপে এই ইস্যুতে অবিচল সমর্থনের কথা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কাশ্মীরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আর এই ইস্যুতে তুরস্কের অবিচল সমর্থনের আশ্বাস দেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে জানান, কাশ্মীর পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মরগান অরথাগাস এক বিবৃতিতে বলেন, কাশ্মীরের নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা ও তাদের স্বতন্ত্র অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোরও আহ্বান জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।
সর্বভারতীয় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান আকর প্যাটেল বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে কাশ্মীর প্রত্যক্ষ করছে অতিরিক্ত হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিষেধাজ্ঞাÑ জম্মু-কাশ্মীরের মানুষদের খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।’