মিন্নির জামিন শুনানি পিছিয়ে আগামীকাল

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া তারই স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নির পক্ষে হাইকোর্টে করা জামিন আবেদনটির শুনানি হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবকাশকালীন বেঞ্চে এটি শুনানির জন্য তোলা হলে আদালত বিস্তারিত শুনবেন জানিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করে। এদিন আদালতে মিন্নির পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই (জহিরুল ইসলাম) খান পান্না।

নিম্ন আদালতে দুই দফা জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর গত সোমবার হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন মিন্নি। তার পক্ষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না এটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন। গত ২১ জুলাই বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর ৩০ জুলাই বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকও তার জামিন আবেদনে সাড়া দেননি।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে বহু পথচারীর উপস্থিতিতে স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে একদল যুবক। পরে ওইদিনই বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিফাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে হামলার সময় রিফাতকে বাঁচাতে মিন্নির প্রচেষ্টা দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি করে। পরদিন ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন রিফাতের বাবা (মিন্নির শ্বশুর) আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। সেখানে এক নম্বর সাক্ষী করা হয় মিন্নিকে। এরই মধ্যে রিফাত হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আলোচিত সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। পরে গত ১৩ জুলাই বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দুলাল শরীফ অভিযোগ করেন, মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিয়ে হয়েছিল এবং তারা যোগাযোগ রাখত। ছেলের হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ করেন দুলাল শরীফ।

এরই ধারাবাহিকতায় রিফাত হত্যা মামলার এক আসামিকে শনাক্ত এবং জবানবন্দি নেওয়ার কথা বলে গত ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। সেখানে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রিফাত হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানান বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। এরপর ১৭ জুলাই পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ জানায়, রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা জানিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মিন্নি। তবে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেন, নির্যাতন ও জবরদস্তি করে মিন্নির কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পরে কারাগারে দেখা করে এসে মিন্নির বরাত দিয়ে তার অন্য স্বজনরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন।