দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডারের ১০ দিক

মাত্র ৩২ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘দ্য গ্রেট’ খ্যাত বীর আলেকজান্ডার। প্রাচীন গ্রিস থেকে রাজ্য বিজয় করতে করতে তিনি ভারতবর্ষে হাজির হয়েছিলেন। সারা পৃথিবীর অধীশ্বর হতে চেয়েছিলেন এই মহাবীর। তার বীরত্বের ইতিহাস মৃত্যুর প্রায় আড়াই হাজার বছর পরও বহুল আলোচিত। আলেকজান্ডারের জীবনের নানা দিক নিয়ে লিখেছেন আন্দালিব আয়ান

কখনোই যুদ্ধে হারেননি

মহাবীর আলেকজান্ডারকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সফল সমর নায়ক। প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি অসংখ্য শত্রু দেশ এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন। কিন্তু তিনি তার জীবনে কোনো যুদ্ধে কখনো হারেননি। বলা হয়ে থাকে যুদ্ধের ময়দানে তাকে হারানোর মতো ক্ষমতাধর পৃথিবীতে কেউ  ছিল না। সমরবিদ্যায় তার অসামান্য দক্ষতা তাকে অপরাজেয় বীরে পরিণত করেছে। যুদ্ধ জয়ে তার নেতৃত্ব দেওয়া শুরু হয়েছিল মাত্র ১৮ বছর বয়সে। তার পর থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই গ্রিস থেকে ভারতবর্ষ পর্যন্ত তিনি তার রাজত্ব কায়েম করেন।

সিংহাসনে বসেন মাত্র ২০ বছর বয়সে

উত্তরাধিকার সূত্রে মাত্র ২০ বছর বয়সে মেসিডোনিয়ার সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন আলেকজান্ডার। কিন্তু মাত্র ২০ বছর বয়সের সদ্য যুবক কীভাবে অর্ধ পৃথিবীর অধীশ্বর হয়ে উঠেছিলেন তা অনেকের কাছেই বিস্ময়। তার পিতা দ্বিতীয় ফিলিপ খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মেসিডোনিয়ার রাজা ছিলেন। পারস্য অভিযানের আগে বোন ক্লিওপেট্রার বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে চক্রান্ত করে হত্যা করা হয়। গ্রিসের উত্তর-পূর্ব দিকে বলকান উপদ্বীপে ছিল মেসিডোনিয়া রাজ্যটি। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ছিল

কৃষিজীবী। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ মেসিডোনীয় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে এক শক্তিশালী সেনাদল গঠন করেন। কৃষকদের মধ্য থেকে বেছে বেছে তিনি তার পদাতিক বাহিনী গঠন করেছিলেন। যুদ্ধে পদাতিকদের নিয়েই ফালাঙ্গোস তৈরি করা হতো। অভিজাত মেসিডোনীয়রা হতো অশ্বারোহী যোদ্ধা।

আলেকজান্ডারের পিতা রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ তার শক্তিশালী সেনাবাহিনী দিয়ে একের পর এক গ্রিক শহর দখল করতে শুরু করেছিলেন। তার বীরত্বে গ্রিক দাস মালিকদের একাংশ স্বেচ্ছায় তার বশ্যতা স্বীকার করে নেয়। আলেকজান্ডার তখনো কৈশোর পাড়ি দেননি। তখন থেকেই সমগ্র বিশ্ব জয় করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। পিতার যুদ্ধ সাফল্য দেখে তিনি হতাশ হয়ে একবার মন্তব্য করেছিলেন- ‘আমার পিতাই সব অধিকার করে নেবেন দেখছি। বিরাট ও গৌরবময় কোনো কিছু করার সুযোগ আর আমার কপালে থাকল না।’

সিংহাসনে আরোহণের পর পরই ৩০ হাজার পদাতিক সৈন্য এবং ৫ হাজার অশ্বারোহী যোদ্ধা নিয়ে দিগি¦জয়ে বেরিয়ে পড়েন আলেকজান্ডার।

রহস্যময় মৃত্যু

আজকের দিনেও ইতিহাসবিদদের কাছে আলেকজান্ডারের মৃত্যু এক রহস্যজনক ব্যাপার। কেউ কেউ দাবি করেন, আলেকজান্ডারের মৃত্যু হয়েছিল ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। আবার কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক হত্যাকা-ের শিকার হয়েছিলেন। তবে, বেশিরভাগ ঐতিহাসিকের মতে, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং প্রচ- জ্বরের কারণেই আলেকজান্ডারের মৃত্যু ঘটেছিল। জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে আলেকজান্ডার বাগদাদে ফিরে এসেছিলেন এবং সেখানে খুব কাছের এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রাতভর পানোৎসবের আয়োজন করেন। মাঝরাতের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থবোধ করতে শুরু করেন এবং প্রচ- জ্বরের কবলে পড়ে তিনি শয্যাশায়ী হন। টানা নয় দিন জ্বরে ভুগে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

বাবার স্বপ্ন ছিল পারস্য বিজয়

নিজের ক্ষমতা এবং শক্তি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আলেকজান্ডার। এই আত্মবিশ্বাস তাকে পারস্য সম্রাট তৃতীয় দারিয়ুসের সঙ্গে যুদ্ধে বিজয় এনে দেয়। পারস্য বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন আলেকজান্ডারের পিতা দ্বিতীয় ফিলিপ। কিন্তু তার আগেই তিনি প্রাণ হারিয়েছিলেন।

পারস্য অভিযানের আগে সুকৌশলী আলেকজান্ডার অভিযান চালালেন বলকান অঞ্চলে। তার উদ্দেশ্য ছিল পারস্যে প্রবেশের পথটা মসৃণ করা। পারস্যের মতো বিশাল সাম্রাজ্যকে পদানত করা তখন সহজ ব্যাপার ছিল না। পারস্য সম্রাট দারিয়ুসের সেনাবাহিনী তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড়। পারস্য জয়ের আগে মিসর দখলে নিয়েছিলেন আলেকজান্ডার। তবে মিসরে প্রবেশের পথে বর্তমান ফিলিস্তিনের গাজায় শক্তিশালী বাধার সম্মুখীন হন তিনি। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, গাজা জয় করার পর পুরুষদের নির্বিচারে হত্যা ও নারীদের বন্দি করেছিলেন তিনি। আলেকজান্ডার মিসরে পৌঁছালে তাকে নতুন ফারাও ঘোষণা করা হয়। তারপর শুরু হয় পারস্যের বিরুদ্ধে তার মূল অভিযান। দারিয়ুসের বাহিনীর সঙ্গে তিনটি বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয় আলেকজান্ডারের বাহিনীর। অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ৩৩১ অব্দে বিখ্যাত গগোমেলার যুদ্ধে দারিয়ুস চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন। পরে তিনি সাম্রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার সেনাপতিরাই তাকে হত্যা করে।

দর্শনের প্রতি ঝোঁক

আলেকজান্ডার একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন এ বিষয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই। তবে, দর্শন শাস্ত্রের প্রতি তার ঝোঁক অনেকের কাছেই চমকের মতো। ছেলেবেলা থেকেই তিনি দর্শন শাস্ত্রে দীক্ষা নেন। আর এই দীক্ষা তিনি পেয়েছিলেন দার্শনিক প্লেটোর শিষ্য স্বয়ং এরিস্টটলের কাছ থেকে। এরিস্টটল তাকে জীবন এবং দর্শন নিয়ে বিস্তৃত ধারণা দেন। গ্রিক দার্শনিক এবং সাধু ডায়োগনেসের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন আলেকজান্ডার। দর্শনচর্চার যোদ্ধাদের জীবনকে আরও গভীরভাবে অনুধাবন করেন তিনি। যখন ভারতবর্ষে তিনি পা রাখেন, তখন এই অঞ্চলের সাধু সন্ন্যাসীদের ধর্ম ও দর্শন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন। জানা যায়, যুদ্ধ বিবাদ কিছু দিনের জন্য স্থগিত রেখে ভারতীয় ঋষিদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন আলেকজান্ডার।

বদলে দিতেন বিজিত শহরের নাম

আলেকজান্ডার অন্তত ৭০টি বড় বড় শহর জয় করে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে অন্তত ২০টি শহরের নাম তিনি বদলে দিয়েছিলেন। এই শহরের নামগুলো তিনি নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে রেখেছিলেন। উদাহরণ স্বরূপ, মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের নামটি। আলেকজান্ডারকে বলা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিজেতা। ভূমধ্য অঞ্চল থেকে তিনি তার বিজয়যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং ভারতবর্ষে এসে থামেন। যাত্রাপথে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তিনি অসংখ্য শহর আবিষ্কার করেন। নিজের ঘোড়ার নামে ভারতবর্ষে তিনি একটি শহরের নাম দিয়েছিলেন বুচেফালা। যুদ্ধের ময়দানে এই ঘোড়াটি প্রাণ হারিয়েছিল। আলেকজান্ডারের সব যুদ্ধে তার বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিল বুচেফালা। এই ঘোড়াটির প্রতি ছিল তার অসামান্য প্রেম। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলেকজান্ডারকে সঙ্গ দিয়েছে এটি। বুচেফালাকে আলেকজান্ডারের পিতা দ্বিতীয় ফিলিপ কিনেছিলেন। এই ঘোড়াটি এতটাই বদমেজাজি ছিল যে, তাকে কেউই বশে আনতে পারত না। শুধু আলেকজান্ডারের নির্দেশই মানত এই প্রাণীটি।

জটিল গিট্টুর ঘটনাটি

বাল্যকাল থেকেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেন আলেকজান্ডার। তাই গোর্দিউস নগরে জটিল গিট্টু সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বর্তমান তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল গোর্দিউস নগরী। এই নগরীতে এক রথের ওপর অত্যন্ত জটিলভাবে জট পাকানো একটি গিঁট রাখা ছিল। বলা হতো, যে বীর এই গিট্টু খুলতে পারবেন, তিনিই হবেন সমগ্র এশিয়ার অধিপতি। এর আগে অনেকেই এই গিঁট খুলতে চেষ্টা করেছিল বটে, সবাই ব্যর্থ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আলেকজান্ডারও চেষ্টা করেন এই গিঁট খোলার জন্য। কিন্তু কোনোক্রমেই যখন তিনি এটি খুলতে পারছিলেন না, তখন সবচেয়ে সহজ পদ্মতিটিই বেছে নিলেন। তিনি তার তরবারি বের করলেন এবং এই গিঁট কেটে ফেললেন।

তিন নারীকে বিয়ে করেছিলেন

প্রেম এবং রাজনৈতিক কারণে প্রথম দুটি বিয়ে করেছিলেন আলেকজান্ডার। তার স্ত্রীরা ছিলেন পারস্যের রাজকুমারী। এই বিয়ে দুটো তাকে রাজনৈতিকভাবে অনেক লাভবান করেছিল। কিন্তু এশিয়া অভিযানের সময় রোক্সানা নামে তিনি এক রাজকর্মচারীর কন্যার প্রেমে পড়েন। এই রোক্সানা ছিল এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সুন্দরী। রোক্সানার প্রতি প্রেম তার এতটাই গভীর ছিল যে, শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে বিয়ে করেন। ভারতবর্ষ অভিযানের সময় আলেকজান্ডারের সঙ্গী ছিলেন রোক্সানা। তারা দুজন এক সন্তানের জন্ম দেন। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর এই সন্তানের জন্ম হয়েছিল।

তবে, অনেক গবেষণায় এটাও প্রতীয়মান হয়েছে যে, আলেকজান্ডার ছিলেন উভকামী। তিনি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নারী এবং পুরুষের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতেন। তবে, অনেক গবেষকের মতে, আক্ষরিক অর্থে তিনি উভকামী ছিলেন না বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক সন্ধি স্থাপনে এই ধরনের সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। নিজের স্ত্রীরা ছাড়াও তার বেশ কিছু উপপতœীও ছিল। এছাড়াও পারস্য বংশোদ্ভূত বাগোয়াস নামে এক হিজড়াও তার ঘনিষ্ঠ ছিল। জানা যায়, বাগোয়াসকে একবার তিনি প্রকাশ্যেই চুমু খেয়েছিলেন।

পারস্যের জাফরান প্রীতি

গবেষকদের মতে, সমসাময়িক সমরনায়কদের মধ্যে আলেকজান্ডারই ছিলেন সবচেয়ে সুসজ্জিত নেতা। তার শরীর থেকে সব সময় সুগন্ধ ছড়াত। কারণ তিনি গোসলের সময় নানা ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। ইতিহাসবিদদের মতে, আলেকজান্ডার প্রতিদিন তার চুল বহু মূল্যবান জাফরান দিয়ে ধুয়ে নিতেন। বিশেষ পরিচর্যার জন্য তার চুল সব সময় উজ্জ্বল দেখাত এবং এগুলো নড়াচড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওপর-নিচে দুলে উঠত। সেই সময়গুলোতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল জাফরান। এটি সোনার চেয়েও দামি বস্তু হিসেবে খ্যাত। তাই বলা যায়, চুলের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পরিচর্যাটি এখন পর্যন্ত আলেকজান্ডারই করেছেন। এই জাফরান সে সময় পারস্য থেকে সংগ্রহ করা হতো। জন্মসূত্রে মেসিডোনিয়ান হলেও পারস্য বিজয়ের পর তিনি ওই অঞ্চলের ফ্যাশন এবং শিষ্টাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন।

পারস্য বিজয়ের সময় পারস্যের অনেক সৈন্যকে তিনি নিজের সেনাবাহিনীতে সম্পৃক্ত করেছিলেন। এসময় আচার-আচরণ ও পোশাক-আশাকে তিনি ওই অঞ্চলের রীতি অনুসরণ করেন যেন, সেনারা তাকে আপন মনে করে। এছাড়াও পারস্য স্টাইলে তিনি নিজেকে ‘রাজাদের রাজা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

‘হেটারোক্রোমিয়া ইরিডাম’ নামে এক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন আলেকজান্ডার। বহু ইতিহাসবিদের বর্ণনায় তার এই চোখের অসুখ সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তার দুই চোখের রঙে তারতম্য দেখা দিয়েছিল। তার একটি চোখের মণি ছিল নীল, অন্যটি বাদামি।

হারকিউলিস ছিল আদর্শ

বিখ্যাত গ্রিক যোদ্ধা হারকিউলিসের শৌর্য এবং বীরত্বের প্রতি মোহাবিষ্ট ছিলেন আলেকজান্ডার। তাই হারকিউলিসের নানা উপাখ্যান তাকে বিশ্বখ্যাত বীর হতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। নিজেকে তিনি হারকিউলিসের মতোই ভাবতেন। এমনকি তিনি নিজেকে মাঝেমাঝে জিউসের পুত্র হিসেবে আখ্যা দিতেন। গ্রিক উপাখ্যান অনুযায়ী, হারকিউলিস ছিলেন দেবরাজ জিউসের পুত্র। আলেকজান্ডার বিশ্বাস করতেন, তার পিতার দিক থেকে পূর্বপুরুষরা ছিলেন হারকিউলিসের বংশধর। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই ধারণাই পোষণ করে গেছেন।

সেই সময়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহৎ মানুষ এবং বীর যোদ্ধাদের মৃতদেহ মূল্যবান পাথরের কফিনে রাখা হতো। আলেকজান্ডারের মৃতদেহও এমন একটি কফিনে রাখা হয়। এই কফিনটি আবার মধুর প্রলেপ দিয়ে মোড়ানো হয়। পরে এটিকে আরেকটি স্বর্ণখচিত বাক্সে সংরক্ষণ করা হয়।