হাতবদল হচ্ছে মিরপুরের একাডেমি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

আপাতত বাংলাদেশ দলের ঘরের মাঠে কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ নেই। এই সময়টা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মিরপুরে স্টেডিয়ামের একাডেমি ভবনের মূল জিমনেশিয়ামের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় মিডিয়া ভবনের নিচ তলার যে কক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের কার্যক্রম চলে, সেখানে অস্থায়ী জিমনেশিয়াম বানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জিমের ঠিক পাশে সুইমিংপুল তৈরির কার্যক্রমও শুরু করেছে বিসিবি। এর সঙ্গে পুরো একাডেমিক প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। এই জায়গাগুলো বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে হাই পারফরম্যান্সের (এইচপি) কাছে হস্তান্তর করতে চান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

এ নিয়ে সহ-সভাপতি ফাহিম সিনহা বলেন, ‘এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন থেকে একাডেমি এইচপির অগ্রাধিকারে থাকবে। জাতীয় দল ও এইচপির ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জিম ও সুইমিং পুলের কাজ আমরা দ্রুত শেষ করতে চাই, যাতে এইচপির ক্যাম্পের খেলোয়াড়রা এর সুবিধা পায়। এর পাশাপাশি বায়োমেকানিক্স পরীক্ষাগারও হচ্ছে।’ তবে বায়োমেকানিক্স ল্যাব মিরপুরের পরিবর্তে পূর্বাচলে করার পরিকল্পনার কথা জানান ‘বায়োমেকানিক্স করতে গেলে খেলোয়াড়দের জন্য তথ্যভা-ার লাগে, তাদের পর্যবেক্ষণের উপকরণ লাগে, মৌলিক কিছু বিষয়ের প্রয়োজন হয়। এ জন্য বড় জায়গা ছাড়া বায়োমেকানিক্স পরীক্ষাগার করা সম্ভব নয়। একাডেমি বা মিরপুরে করা যাবে না, সেখানে এত জায়গা নেই। পূর্বাচলে যে স্টেডিয়ামটি আমরা করব, সেখানে হবে এই ল্যাব।’

দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে চলে আসছে এইচপির কার্যক্রম। অথচ এটাকে দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন তৈরির সবচেয়ে বড় কর্মসূচি হিসেবে ধরা হয়। এর আগে নাঈমুর রহমান, মাহবুব আনাম, খালেদ মাসুদরা এইচপি ঘিরে একাধিক উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়ন করতে পারেননি। সর্বশেষ আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডও এইচপি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করে। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্প চলাকালীন ক্রিকেটারদের থাকার জন্য একাডেমি ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা আধুনিকায়ন এবং সুইমিংপুল নির্মাণে শুধুমাত্র পরামর্শক হিসেবে ‘বাশাত আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫০ লাখ টাকার চুক্তির সিদ্ধান্তও হয়। যেখানে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি ছিল। এমন আলোচনার মধ্যেই সভাপতির দায়িত্ব ছাড়তে হয় বুলবুলকে।

সাবেক এই সভাপতির মতোই মাঠের ক্রিকেট থেকে এখন সর্বোচ্চ প্রশাসক হয়েছেন তামিম। অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব পেয়েই জানান, এইচপি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা আছে তার। গত ৭ জুন নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার দিনও একই কথা শোনা যায় তার মুখে। এর কার্যক্রমও শুরু করেছেন। জাতীয় দলের উপযোগী করে ক্রিকেটার তৈরি রাখতে বছরব্যাপী চলবে এইচপির কার্যক্রম। দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় কোচরা।

প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সহকারী ও ব্যাটিং কোচ মিজানুর রহমান, সোহেল ইসলাম স্পিনের পাশাপাশি ব্যাটিং বিভাগও দেখবেন। মূল স্পিন কোচের দায়িত্ব পালন করবেন আব্দুর রাজ্জাক, ফিল্ডিং ও উইকেটরক্ষক কোচ গোলাম মর্তুজা, পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের। তবে যেহেতু এখনো চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়নি, এ জন্য করি কলিমোরও তার সঙ্গে থাকবেন। এ নিয়ে এইচপি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এবার আমাদের খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক হবে। একজন পেস বোলিং কোচ দিয়ে হবে না। লাল বল-সাদা বল মিলিয়ে অনেক খেলোয়াড় থাকবে। এ ছাড়া তালহা এখন জাতীয় দলের সঙ্গে আছে। সে আসার আগে ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।’

তবে এখনই শুরু হচ্ছে না এইচপির বছরব্যাপী কার্যক্রম। আপাতত আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ও সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে পরিকল্পনা তাদের। চলতি মাসে জোহানেসবার্গ যাবেন জাকির হাসান, মাহিদুল ইসলাম। সেখানে প্রোটিয়া ‘এ’ দল ও স্থানীয় ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস দলের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের সূচি আছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ এইচপি ইউনিট। এই সফরের জন্য ২২ জন ক্রিকেটার ডাক পেয়েছেন। গতকাল মিরপুরে রিপোর্টিং করেন তারা। এই ক্যাম্পের মধ্যে দিয়ে একাডেমির দায়িত্ব পাচ্ছে এইচপি। এ নিয়ে গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগে চিঠি দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে এইচপিকে ঢেলে সাজাতে বাংলাদেশ টাইগার্সের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ফাহিম, ‘টাইগার্সের কর্মসূচিটা আমরা আর পরিচালনা করছি না। এটা এইচপির সঙ্গে একীভূত হয়ে যাচ্ছে।’ এ জন্য এইচপিতে ক্রিকেটারদের কোনো বয়সের মানদণ্ড থাকবে না। এর পাশাপাশি এইচপি ইউনিটের ক্রিকেটারদের ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের সমপরিমাণ ম্যাচ ফি ও ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও শোনালেন বিসিবির এই সহসভাপতি, ‘যদিও এটা এখনো চূড়ান্ত নয়। হয়তো আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।’

এদিকে কীভাবে এইচপির কর্মসূচি চলবে, সে নিয়ে একজন কোচ নাম প্রকাশ করতে না চেয়ে বলেন, ‘বছরব্যাপী ৩৫ জনের একটি দলের ক্যাম্প হবে। যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা ২০ জন তরুণ ক্রিকেটার থাকবে। জাতীয় দলে খেলছে কিন্তু এই মুহূর্তে দলে নেই এমন ছয় থেকে সাতজন এবং অনেক দিন ধরে জাতীয় দলের ভাবনায় আছে এমন সাত থেকে আটজন ক্রিকেটার নিয়ে ক্যাম্প চলবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত