ঈদযাত্রার প্রথম দিন সময়মতো ছেড়েছে ট্রেন

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগাম টিকিটে রেলের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার; সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫২টি ট্রেনের মধ্যে ২২টি আন্তঃনগরসহ ৩৩টি রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সময়মতো ছাড়লেও সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা থেকে সর্বনিম্ন ১৫ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে আটটি ট্রেন। এতে খানিকটা ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে এটি শিডিউল বিপর্যয় নয়, সামান্য দেরি বলেছেন কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক। বিলম্বিত ট্রেনগুলোর মধ্যে রাজশাহীগামী ধূমকেতু

 এক্সপ্রেস আধঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৬টায়, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট পর ৬টা ২০ মিনিটে, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট পর ৮টা ৪০ মিনিটে, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টায় ছেড়েছে। এছাড়া তিস্তা এক্সপ্রেস ১৫ মিনিট বিলম্বে পৌনে ৮টায়, দিনাজপুর-পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ২০ মিনিট পর ১০টা ২০ মিনিটে এবং রাজশাহী এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট পর দুপুর ১টার দিকে ছেড়ে যায়।

সরেজমিনে গতকাল সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদযাত্রার প্রথম দিনে যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনে চলে এসেছেন বেশিরভাগ যাত্রী। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাসানুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে ভিড় শুরু হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। তবে আমার ট্রেন এখনো আসেনি; ১৫ মিনিটেরও বেশি লেট।’

রাজশাহী এক্সপ্রেসের যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা রিকশা চালাইয়া খাই। যানজটের কারণে রিকশা চালাইতে পারি না। তাই আগেভাগে বাড়ি যাচ্ছি।’ ট্রেনের বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিকিট তো কাটছি ট্রেন আসেনি, কখন যে আসে!’

একই ট্রেনের যাত্রী মানিক বলেন, ‘টিকিট পাই নাই, কিন্তু স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনছি। তবে ট্রেন এখনো আসে নাই। ঈদে বাড়ি যাচ্ছি, এইটাই তো আনন্দ।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম দিনে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও সামনের দিনগুলোতে তা বাড়বে। ফলে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হতে পারে। কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, ‘গতবারের তুলনায় উত্তরাঞ্চলের ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় আমরা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা এগুলোকে শিডিউল বিপর্যয় বলা যাবে না। যেহেতু বৃহস্পতিবার থেকে অফিস ছুটি শুরু হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে আমরা আশা করছি, কাল সকাল এবং বিকেলে ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়বে। তবে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে আমরা প্রস্তুত আছি এবং আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি ট্রেনে ডেঙ্গু মশা মারার ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রুটগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি; সেগুলোর কাজ পুরোদমে চলছে। আশা করি, দুয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।’ আমিনুল হক জানান, গতকাল কমলাপুর থেকে সব মিলিয়ে ৫২টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে; যার আসনসংখ্যা ৫২ হাজার। আর প্রতি ট্রেনেই ৩০ ভাগ আসনবিহীন (স্ট্যান্ডিং) টিকিট দেওয়া হচ্ছে।