প্রাথমিকে দেড় হাজার শিক্ষক আত্তীকরণ হচ্ছে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষককে আত্তীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বছর আগে ২৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও নানা জটিলতায় শিক্ষকদের আত্তীকরণ আটকে ছিল। চলতি মাসের এ সংক্রান্ত সভা করে এসব শিক্ষককে সরকারিকরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কয়েক বছর আগে সারা দেশে ২৬ হাজারের বেশি

প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। তিনটি ধাপে এসব প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষককে জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়। তৃতীয় ধাপে সারা দেশে ৫৪৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও মামলা জটিলতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বিলম্ব, নানা অভিযোগ-আপত্তিসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় এ ধাপে ২৯১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আত্তীকরণের আওতাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তারা জানান, আবার নতুন করে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঁচজন করে শিক্ষককে জাতীয়করণ করতে আগামী ২৮ আগস্ট সাত সদস্যের টাস্কফোর্স কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সভায় শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও যোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আত্তীকরণের আওতায় আনা হবে। আত্তীকরণ হলে এসব শিক্ষকরা ২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে বেতন-ভাতার সুবিধা ভোগ করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বদরুল হাসান চৌধুরী গতকাল বুধবার বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় তৃতীয় ধাপে ২৯১টি বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষককে এ আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। চলতি মাসে এসব শিক্ষককে আত্তীকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২৮ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে একটি সভা ডাকা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষকের প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে সভায় তাদের আত্তীকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আর যেসব বিদ্যালয় ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ পাওয়া যাবে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জাতীয়করণ স্থগিত থাকবে। তবে মন্ত্রণালয়ে আসা অভিযোগগুলো মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তকাজ শেষ হওয়ার পর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেসব শিক্ষকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’