উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়ার অদূরে ঠেঙ্গারচরে সিমেন্টের ক্লিংকারবাহী লাইটার জাহাজ এমভি টিটু-১৮ ও এমভি টিটু-১৯ ডুবে গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে দুই জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২১ নাবিককে উদ্ধার করেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘দুর্জয়’, ‘শৈবাল’, ‘সুরভী’ ও ‘সোয়াডস’। ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটির মালিক আবুল খায়ের গ্রুপ।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘দুর্জয়’, ‘সুরভী’, ‘শৈবাল’, সোয়াডস টিম এবং বিএন হেলিকপ্টার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারা আরও জানায়, উত্তাল বঙ্গোপসাগরে নিমজ্জিত দুটি ক্লিংকারবাহী জাহাজের মধ্যে এমভি টিটু-১৮ থেকে ১০ নাবিককে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। অপর একটি ক্লিংকারবাহী জাহাজ এমভি টিটু-১৯ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টারের (অড-১৩৯) মাধ্যমে ১১ নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকে নিয়ে আসে এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। উদ্ধারকৃতদের জহুরুল হক ঘাঁটি থেকে আবুল খায়ের গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা হলেন মিরসরাইয়ের শায়েস্তা খান, ফিরোজ খান, সেলিম, টাঙ্গাইলের সিদ্দিক (ইঞ্জিন ড্রাইভার), হাতিয়ার ইসহাক, সৈকত আলী, ভোলার আবদুর রহিম, ফেনীর ইকবাল হোসেন, শিবলু, ছাগলনাইয়ার আবদুর রহিম ও মাগুরার মেহেদি।
আইএসপিআর আরও জানায়, সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় সাঙ্গু গ্যাস ফিল্ড থেকে উত্তরে এমভি টিটু-১৮ নামে ক্লিংকারবাহী জাহাজ বেলা ১১টায় এবং এমভি টিটু-১৯ আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে ডুবে যায়।
বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে ক্লিংকারবোঝাই করে জাহাজ দুটি নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ যাচ্ছিল। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হওয়ায় সাগর উত্তাল ছিল। প্রচণ্ড ঢেউয়ে একটি জাহাজের তলা ফেটে যায় এবং অপর একটি জাহাজের হ্যাজ ভেঙে পড়ে। পরে জাহাজ দুটি কুতুবদিয়ার ঠেঙ্গারচর এলাকায় ডুবে যায়। ইতিমধ্যে জাহাজ দুটি থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে ২১ জনকে উদ্ধারের খবর পেয়েছি। অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।