ভিজিএফ চালের ভাগ চাইতে গিয়ে অবরুদ্ধ জাতীয় যুবসংহতির সভাপতি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ চালের দলীয় ভাগ চাইতে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়েছেন জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন যুবসংহতির উপজেলা সভাপতি এমদাদুল হক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চাল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

রণচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  মোখলেছুর রহমান বিমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে ইউনিয়নের ৫ হাজার ৫৭৫ অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য সরকার বিশেষ ভিজিএফ প্রদান করে।

সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য জাতীয় পার্টিকে ২০০, ওই দলের অঙ্গ সংগঠন যুবসংহতি ও স্বেচ্ছাসেবক পার্টিকে ১০০ করে এবং ছাত্রসমাজের নেতাদের ৫০টি কার্ড প্রদান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কার্ডের এসব সুবিধাভোগী ইউনিয়ন পরিষদে এসে চাল নিয়ে যাওয়ার কথা।

কিন্তু  কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবসংহতির সভাপতি এমদাদুল হক সুবিধাভোগী না এনে ১০০ কার্ডের চাল দাবি করলে বিতরণ কাজে নিয়োজিতরা তা দিতে অস্বীকার করেন। এতে এমদাদুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে বিতরণকাজ বন্ধ করে দেন।

এ সময় সেখানে চাল নিতে আসা সুবিধাভোগীরা তাকে আটক করে পরিষদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনায় এক ঘণ্টা চাল বিতরণ বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ এসে এমদাদুল হককে উদ্ধার করার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘উপজেলা যুবসংহতির সভাপতি এমদাদুল হক ওই ১০০ কার্ড সুবিধাভোগীর মাঝে বিতরণ না করে বরাদ্দকৃত ওই সব কার্ড আত্মসাৎ করার জন্য নিজেই চাল উত্তোলন করতে এসেছিলেন।’

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এমদাদুল হক বলেন, ‘জাতীয় পার্টির তালিকার লোকজনকে চেয়ারম্যান চাল দিচ্ছেন না এমন অভিযোগে আমি সেখানে যাই। এরপর চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে অবরুদ্ধ করে মারধর করে। চাল বিতরণে তাদের অনিয়ম ঢাকতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের হামলায় উপজেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি সাকির হোসেন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করি।’