পলাশের পছন্দের খাবার তৈরি করে রেখেছিলেন মা

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গ্রিনরোডে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মারা যান পলাশ দে (২৫)। 

কথা ছিল ঈদুল আজহার ছুটিতে শনিবার তিনি বাড়ি ফিরবেন। সে অপেক্ষায় ছিলেন মা। ছেলের পছন্দের খাবারও প্রস্তুত করছিলেন। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন পলাশ দে। 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর গ্রিন রোডে এ ঘটনা ঘটে। 

চিকিৎসক পলাশ দে'র গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের প্রাণনাথপুর পালপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের গোপাল দে এবং মা তাপসী রাণী দে'র ছেলে।

নিহত পলাশের ছোট ভাই তুষার দে ও কাকা বাসু দে জানান, পলাশ দুই বছর আগে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করে ঢাকার কলাবাগানের গ্রিন রোডের গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চাকরিতে যোগ দেন।
তারা বলেন, এখানে পার্টটাইম চাকরির পাশাপাশি তিনি একটি কোচিং সেন্টারে বিসিএসবি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। থাকতেন মোহাম্মদপুরের নবদয় হাউজিংয়ের ৬নং রোডের ১৪নং বাসায়। 

তারা আরো বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে পলাশ বাসা থেকে বের হয়ে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে  যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি জমে থাকা বৃষ্টির পানি ভেঙ্গে অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পানিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক ছেঁড়া তারের সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে স্থানীয়রা সজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটস্থ ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ খবর সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উপজেলার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের প্রাণনাথপুর পালপাড়া গ্রামে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। 

পলাশ দে শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রাজধানীর নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। 

এরপর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে  ভর্তি হন। ২০১৬ সালে সেখান থেকে এমবিবিএস পাশ করে চাকরির সুবাদে ঢাকায় পাড়ি জমান। 

শনিবার ইদুল আজাহার ছুটিতে তার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। 

তার মা তাপসী রাণী ছেলের পছন্দের খাবার তৈরির সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। কিন্তু ছেলে নয়, ছেলের লাশ আনতে সন্ধ্যায় তিনি মাইক্রোবাস যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।