আগাম টিকিটে ঈদযাত্রার প্রথম দিনে বেশির ভাগ ট্রেন সময়মতো ছাড়লেও দ্বিতীয় দিনেই এলোমেলো হয়ে গেছে সময়সূচি। ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে বেশ কয়েকটি ট্রেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ মেইল, এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেনগুলোও নির্ধারিত সময়ের ৩০-১০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫৫টি ট্রেনের মধ্যে ২২টি আন্তঃনগরসহ ৩১টি ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে যায়। রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে স্টেশনগুলোতে ট্রেন বেশি সময় থামতে হচ্ছে; ফলে নির্ধারিত সময়ে
ছাড়তে পারছে না। সরেজমিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই হাজারো ঘরমুখো মানুষ ভিড় জমিয়েছে। বৃষ্টি বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের দমাতে পারেনি। ব্যাগ-লাগেজসহ স্ত্রী-সন্তান বা মা-বাবাকে নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করছেন অসংখ্য যাত্রী। কেউ কেউ পত্রিকা পড়ে বা গল্পগুজবে সময় পার করছেন। আবার অনেকেই ব্যাগ সামনে রেখে প্ল্যাটফরমে বসে আছেন। সবার একটাই চিন্তা, কখন ছাড়বে ট্রেন।
রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও পৌনে ৩ ঘণ্টা দেরিতে ৮টা ৪৮ মিনিটে ছেড়ে যায়। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও দেড় ঘণ্টা বিলম্বে সকাল সোয়া ৮টায় কমলাপুর ছেড়েছে। চিলাহাটীগামী নীলসাগর ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর ১১টা ২৫ মিনিটে ও রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টার বদলে ২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট পর ১১টা ৩৬ মিনিটে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস সকাল সোয়া ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে ১ ঘণ্টা পর সকাল সোয়া ৯টায়। পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস সকাল ১০টার স্থলে ২ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট পর ১২টা ৪৮ মিনিটে ছেড়ে যায়।
ট্রেন ছাড়তে বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী বেসরকারি স্কুলশিক্ষক পারভীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি লক্ষ্মীবাজার থাকি, সেখান থেকে সকাল ৭টার সময় কমলাপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। কমলাপুর আসতে আসতে বেজে গেছে প্রায় ৯টা। রাস্তায় জ্যাম, গরুর পরিবহনের উৎপাত আর বৃষ্টি। সব মিলিয়ে কত কাঠখড় পুড়িয়ে স্টেশনে এসে দেখি ট্রেন আসার নাম নাই। ট্রেনের সময় ছিল সকাল ১০টা, এখন বাজে ১২টাÑএত লেট হলে কীভাবে হবে?’
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী ঢাকা কলেজের স্নাতকোত্তরের ছাত্র নাইম হাসান বলেন, ‘এখন বাজে ১২টা। এইমাত্র ঘোষণা করল, রংপুর এক্সপ্রেস নাকি ১ নম্বর প্ল্যাটফরমে এসে দাঁড়াবে। অথচ এই ট্রেন আসার কথা সকাল ৯টায়।’ চিলাহাটীগামী নীলসাগরের যাত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আশিক বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ৯ মাস পর বাড়ি যাচ্ছি। এত লেট হবে কেন ট্রেনে?
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের পাশাপাশি বন্যাদুর্গত এলাকার রেললাইনে কম গতিতে চলার কারণে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর ঢাকায় আসতে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রীর চাপে স্টেশনগুলোতে বেশি সময় থামতে হচ্ছে; যার ফলে নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছাড়তে পারছে না। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে কমলাপুর থেকে তিনটি ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ ৫৫টি ট্রেন ছেড়ে যাবে।’
তিনি জানান, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ট্রেন স্টেশনে আসার পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি স্প্রে করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০ হাজার যাত্রী ট্রেনে ঢাকা ছাড়বে। ট্রেনের বিলম্ব এড়াতে কর্র্তৃপক্ষ তৎপর জানিয়ে এই রেল কর্মকর্তা বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য। প্রতিটি ট্রেনেই ৩০ ভাগ স্ট্যান্ডিং (আসনবিহীন) টিকিট দেওয়া হচ্ছে।’