বাসমালিক ও এমডিসহ নয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় নয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আল-মামুনের কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেন। ঘটনার ৩ মাস পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলো। আসামিদের মধ্যে ছয়জনকে

গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশব্যাপী আলোচিত হওয়া এই ধর্ষণের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত বোরহানসহ তিনজন এখনো অধরা।

তানিয়া হত্যা মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ অভিযোগপত্রের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে গতকাল দুপুরে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি অভিযোগপত্রভুক্ত নয় আসামির নাম জানান। এরা হলো স্বর্ণলতা পরিবহনের মালিক আল মামুন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভেজ সরকার, চালক নুরুজ্জামান নুরু, হেলপার লালন মিয়া, চালকের আত্মীয় বোরহান, কাউন্টার ম্যানেজার আল-আমিন এবং রফিকুল ইসলাম, খোকন মিয়া ও বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুল।

গ্রেপ্তার ছয় আসামির মধ্যে নুরুজ্জামান, লালন ও রফিকুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে প্রথম রোজা করতে এ বছরের ৬ মে রাতে ঢাকা থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে তানিয়া। তিনি ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালের সিনিয়র নার্স ছিলেন। কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি আসার পর বাসের অন্য যাত্রীরা নেমে যান। সেখান থেকে বাজিতপুরের পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে গজারিয়া বিলপাড় এলাকায় চলন্ত বাসে তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করে চালক ও তার সহকারী এবং চালকের আত্মীয় বোরহান। পরে তানিয়ার মরদেহ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি ও তদন্তে জানা গেছে, চালক নুরুজ্জামান, হেলপার লালন মিয়া ও চালকের খালাতো ভাই বোরহান ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত। ধর্ষণের পর তানিয়াকে হত্যা করা হবে নাকি বাঁচিয়ে রাখা হবে, তা নিয়ে তিনজনের মধ্যে তর্কাতর্কিও হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, তাকে বাস থেকে ফেলে হত্যার পর দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হবে। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

তদন্তে আরও জানা যায়, তানিয়ার শরীরে ১০টি স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর মধ্যে ধর্ষণের পর মাথায় করা আঘাতে রক্তক্ষরণের ফলে তানিয়ার মৃত্যু হয়।