পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে যৌথ সমীক্ষা করবে বাংলাদেশ-ভারত। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে এ কথা জানানো হয়।
বৈঠকে ফেনী, ধরলা, দুধকুমার, মনু, খোয়াই, গোমতী, মুহুরীÑ এই সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে দ্রুত কাজ করতে এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বিষয়টি এগিয়ে নিতে দুই দেশ একমত হয়েছে। এ বিষয়ে কারিগরি কমিটিও কাজ করবে। শিগগিরই যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারেও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রাসাদ সিং বলেন, বাংলাদেশের গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি ব্যবহার করলে ভারতের কোনো আপত্তি নেই। তবে এই ব্যারাজের
প্রভাব কী হবে এবং কোন স্থানে ব্যারাজ নির্মাণ করলে ভালো হবে সে বিষয়ে একটি যৌথ সমীক্ষা চালানোর ওপর তারা জোর দিয়েছেন। ব্যারাজ করার কারণে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে সেসব বিষয়ই মূলত সমীক্ষা হবে। তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের ফলে বিহারে প্রতি বছর পলি জমে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্যই আমরা সমীক্ষার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করছি।
ভারতীয় সচিব অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ভারতের অভিন্ন নদীগুলো অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা করা হবে।
ফেনী নদী প্রসঙ্গে ভারতীয় সচিব বলেন, এ নদীটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ নদীর পানি ত্রিপুরায় খাবারের পানির জন্য এবং ছোট পরিসরে সেচ কাজের জন্যও প্রয়োজন। দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটি এই নদীর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করবে।
এদিকে বাংলাদেশের পানি সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের ছয়টি ও ভারতের চারটি এজেন্ডা ছিল। আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই কাজ এগিয়ে নিতে চাই। আমাদের কমিটি হয়েছে। এই কমিটি কাজ করবে। তিনি বলেন, ভারতে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হিমালয়ান কম্পোনেন্টে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প করা হলে তা বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হবে।
ভারতের পক্ষ থেকে অভিন্ন ছয়টি নদীসহ পশ্চিমবঙ্গে প্রবাহিত আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ হ্রাস, বাংলাদেশের চিনিকল থেকে নির্গত তরল বর্জ্য দ্বারা পশ্চিমবঙ্গের মাথাভাঙ্গ-চর্ণী নদী দূষণ এবং ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ত্রিপুরার সাবরুম শহরে খাবার পানি সংকট মোকাবিলায় ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি উত্তোলন করতে চায় ভারত। ২০১১ সালে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির সঙ্গে ফেনী নদীর চুক্তি হওয়ার কথা ছিল।
আট বছর পর বাংলাদেশ-ভারত পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১১ সালে ১০ জানুয়ারি সর্বশেষ সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি আটকে যায়। এরপর ঢাকার পক্ষ থেকে দফায় দফায় সচিব, মন্ত্রী বা যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তাতে সাড়া দেয়নি নয়াদিল্লি।
গতকাল বাংলাদেশের ছয় দফা এজেন্ডা নিয়ে ভারতীয় দলের সঙ্গে দিনভর আলোচনা হয়। এজেন্ডার মধ্যে বহুল আলোচিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ছিল না এবং আলোচনাও হয়নি। বিষয়টি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বিবেচনাধীন থাকায় এজেন্ডাতে রাখা হয়নি বলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।