খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল

আবেদনের সময় বাড়ল ২১ দিন

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালার আওতায় খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে না পারায় তা পুষিয়ে দিতে আবেদনের সময়সীমা ২১ দিন বাড়িয়ে ৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা এককালীন পরিশোধ করার সুযোগ চেয়ে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। গতকাল

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) উপমহাব্যবস্থাপক এ কে এম এহসান স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে এ কথা বলা হয়েছে। সার্কুলারটি গতকাল বৃহস্পতিবার সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৬ মে ‘ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা’ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালা জারির ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করার কথা বলা হয়। আগামী ১৪ আগস্ট ওই ৯০ দিন পার হয়ে যাবে। তবে নীতিমালার বৈধ্যতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এর কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশের কারণে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে অনেক খেলাপি প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারেনি। এ কারণেই আবেদনের সময়সীমা আরও ২১ দিন বাড়িয়ে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতিমালা অনুযায়ী বকেয়া ঋণের ২ শতাংশ টাকা জমা দিয়েই তারা ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন। এতে সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর এক বছরের ঋণ পরিশোধে বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। আবার ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণও নিতে পারবেন।

আর যারা এক বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করে দিতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বড় ছাড়। তারা চাইলে তহবিল খরচের সমান সুদ দিয়েই বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর তহবিল খরচের হার সাড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশ।

গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ নীতিমালা জারির বিরুদ্ধে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মে হাইকোর্ট এক আদেশে ওই নীতিমালার কার্যক্রমের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। পরে এক আদেশে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ায়। তবে ২ জুলাই হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালত। তারপর থেকেই খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছে।