ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়েছে যানজট। রাত ভর বৃষ্টি আর টাঙ্গাইলে কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খানা-খন্দ থাকায় উত্তরবঙ্গগামী শুক্রবার যানবাহনগুলো অত্যন্ত ধীর গতিতে চলাচল করছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঈদে ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ।
অপরদিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে লাইনচ্যুত হয়। আজ দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। এর ফলে দেশের পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের রেলপথ প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এতে ৭ টি রেলের যাত্রীদের বিভিন্ন জায়গায় আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন।
পূর্বপাড় রেল স্টেশনের ওই সময়ের ইনচার্জ স্টেশন মাস্টার মাসুম আলী খান জানান, ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সেতুতে ওঠার আগে ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ৭ নম্বর বগির দুইটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
ট্রেনটি ঘটনাস্থলে অন্তত সাড়ে তিন ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকার পর সচল করা হলে উত্তরের পথে যাত্রা শুরু করে বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রেন চালক মো. তাজুল ইসলাম। এই চালক বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় ট্রেনের বগির দুইটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছিল।
রেলের যাত্রী নাসির উদ্দিন, মামুন, মারুফ হোসেন, সোহান হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, কি আর কমু সড়ক পথে আসলাম না যানজটের ভয়ে। প্রায় চার ঘণ্টা এখানেই। কখন যে রেল ছাড়ে আল্লায় জানে।
সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটের দিকে এই রেল পথে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পরা উভয় মুখী মোট ১৩টি রেলসহ সকল রেল চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে নিশ্চিত করেন, স্টেশন মাস্টার মাসুম আলী।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জ অংশে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে গাড়ি টানতে পারছে না চালকরা। আর সে কারণে ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৩ বার বন্ধ থাকে সেতুর টোল আদায়। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।
অপর দিকে সেতু কর্তৃপক্ষ বলছেন, যান চলাচল বন্ধ হয়নি। পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জ অংশ থেকে উত্তরবঙ্গ মুখী যানবাহন টানতে না পরায় সেতু দিয়ে যান চলাচল মাঝে মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেতু কর্তৃপক্ষের কোন কিছু করার নাই বলে জানালেন বঙ্গবন্ধু সেতুতে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল।
সেতুর পূর্বপাড় থেকে টাঙ্গাইলে করটিয়া এলাকা পর্যন্ত অন্তত ৩০ কিলোমিটার জুড়ে দিনব্যাপী থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই খুবই ধীর গতিতে যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কে ২৩ টি জেলার যানবাহনের যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
শুক্রবার সকাল থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এলেঙ্গা এলাকায় দায়িত্বরত টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সাজেদুল ইসলাম জানান, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খান-খন্দ হওয়ায় এই এলাকায় গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। যানবাহন থেমে থেমে চলছে।
সেতুর পূর্বপাড়ে দায়িত্বরত জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ইফতেখার নাসির রোকন বলেন, ঈদে অতিরিক্ত যানবাহন এবং পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেই সঙ্গে পূর্ব প্রান্তে টোল আদায় বন্ধ থাকার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা থেমে দিনাজপুরগামী মাহমুদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন আমি ভোর ৫ টা ৩০ মিনিটে রওনা হয়ে দুপুর ১ টায় প্রায় ৭ ঘণ্টায় এলেঙ্গা পৌঁছেছি। বাড়ি যেতে আর কতক্ষণ লাগবে সেটা জানি না।
একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র নারী সাংবাদিক ফারহানা রহমান বলেন, ছুটি পেয়ে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করি। রাস্তায় যানজটের কারণে বিকেল সাড়ে চারটায় টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা রিসোর্ট এলাকায় পৌঁছাই। তিনি চাপা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আমার জীবনে এত লম্বা সময় যানজটে আটকা পড়ে রাস্তায় এর আগে কখনো বসে থাকিনি।
মালবাহী ও যাত্রীবাহী একাধিক যানের চালকরাও বলেন, অত্যন্ত কষ্টে চলাচল করছি।
এদিকে সরেজমিনে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার টাঙ্গাইলে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় অত্যন্ত ধীর গতিতে যানবাহনগুলো উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছে। আবার হঠাৎ করেই যান চলাচল থেমে যাচ্ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এখানে ধীর গতি কিংবা যানজটের আরেকটি বিশেষ কারণ হলো চার লেনের গাড়ি এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দুই লেনে ঢোকে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন করটিয়া থেকে ধেরুয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার আমাদের কার্য পথ। এখানে ঢাকামুখী যানগুলো ধীর গতিতে চলছে। আর টাঙ্গাইলগামী পথে কোন যানজট নেই।
বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা শুক্রবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৩০ হাজার ৮’শত ৫৯ টি গাড়ি পারাপার হয়েছে এবং ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন ১৪-১৫ হাজার যানবাহন পারাপার হয়।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন মহাসড়কের যানজট নিরসনে জেলা পুলিশের ৭ শতাধিক সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। সিরজাগঞ্জ প্রাপ্তে গাড়ি টানতে না পারায় টাঙ্গাইল অংশে যানজট লাগে।