বড় হুজুরের জান্নাত ও জাহান্নাম

বলা বাহুল্য, তথাকথিত বড় হুজুরের ওই ‘জান্নাত’ কিংবা ‘জাহান্নাম’ ইসলামে বর্ণিত জান্নাত ও জাহান্নাম নয়। বড় হুজুর কি নিজের জান্নাত নিশ্চিত করে ফেলেছেন যে, তার কথা না শুনলে জাহান্নামে পাঠানোর বন্দোবস্ত করবেন? মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের চেয়ে বড় কেউ যখন নেই তখন তিনি অবশ্যই বড় হুজুর। দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীদের এতদিন বোঝাতে সক্ষম ছিলেন ‘হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুনাহ হবে। হুজুরের কথা না শুনলে জাহান্নামে যেতে হবে।’ ২৯ জুলাই দেশ রূপান্তরের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান তার ‘ফরজ’ চর্চা করতে গিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তা স্বীকারও করেছেন। অধ্যক্ষ পদবির এই মূর্তিমান খান্নাস ‘ফরজ’ চর্চার বাইরে ‘হাদিস’ও সৃষ্টি করতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শুধু তাই নয়, ইচ্ছেমতো বানানো হাদিস শুনিয়ে ছাত্রীদের মৌখিক ‘বিয়ে’ করতেন। এরপর ধর্ষণ শেষে আরেকটি বানানো হাদিস শুনিয়ে ‘তালাক’ দিতেন।

 

প্রতিবেদনের আংশিক উদ্ধৃতি মহিলা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার এবং অধ্যাপনা পেশা গ্রহণের পেছনে ‘বড় হুজুরের’ উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট করে তুলেছে : আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চার মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে মুস্তাফিজকে (বড় হুজুরের নাম) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১১ জনকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে মুস্তাফিজুর স্বীকার করেছেন, নিজের মনগড়া মিথ্যে ফতোয়া দিয়ে, তাবিজ দিয়ে পাগল করা ও পরিবারের ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখিয়ে ১১ ছাত্রীকে ব্যক্তিগত রুমে নিয়ে তিনি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করেছেন। এমনকি নিকটাত্মীয় এক শিশুকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন।’

 

হালে নারী ও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন বেড়েছে এ ধরনের কোনো ঢালাও মন্তব্য না করে বরং বলতে চাই এ ধরনের অপরাধের সংবাদ চাপাপড়া অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছে, সংবেদনশীল গণমাধ্যম ‘অন্যথায় চাপা পড়ে যেত’ এমন সংবাদ তুলে আনছে, পেছনে লেগে থাকছে এবং এর একটি পরিণতি দেখার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলছে। গ্রেপ্তারকৃত অপরাধী কথিত ক্রসফায়ার কিংবা এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার সংবাদ পড়তে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নিন্দাও করছি কিন্তু গত এক যুগে এ ধরনের শিশু ধর্ষণকারী বড়, মাঝারি কিংবা ছোট কোনো হুজুর কেন ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি এ প্রশ্নটি অনেকেই করতে পারেন। এ ধরনের একটি সংবাদও আমার চোখে পড়েনি। আরও একটি বিষয় আমার চোখে পড়েনি : মাদ্রাসাকে আস্তানা করে এ ধরনের বড়-ছোট বিভিন্ন মাপের হুজুররা যখন কুকর্ম চালিয়ে যান, তাদের যাবজ্জীবন কারাদ- কিংবা ফাঁসির দাবি দূরে থাক তাদের নিন্দা জানাতেও অনেক মাশায়েখ এগিয়ে আসেন না। ধর্ষক ইমাম, ধর্ষক হুজুরের কারণে যে ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এটা বলতেও কুণ্ঠা! নিন্দা জানায় না সংশ্লিষ্ট গভর্নিং কমিটি, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষণকারী কমিটির প্রভাবশালীদের আপনজন অথবা ধর্ষণকারীর অবদানের কারণে কোনো না কোনোভাবে লাভবান। ধর্ষণকারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে কোনো রাজনৈতিক দলই এই অনাচারের সক্রিয় নিন্দা করে না। মনীষীবাক্যই সত্য : ধর্ষণকারী ও রাজনীতিবিদ উভয়েরই হাতিয়ার ধর্ম।

 

ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসার যৌন অনাচারী অধ্যক্ষের নির্দেশে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় নুসরাত জাহান রাফিকে। ওই মাদ্রাসার বড় হুজুর সিরাজউদ্দৌলাও অধ্যক্ষ, তার লাগাতার যৌন অনাচার অনেকেই সহ্য করলেও নুসরাত প্রতিবাদ করে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করে। ১৯ বছর বয়স্ক একজন সাক্ষীকে যদি তিনি জনমের শিক্ষাই না দিতে পারলেন তো কীসের ‘বড় হুজুর’ হয়েছেন! তারই নির্দেশে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যা করা হয়। ঘাতকদের রক্ষা করার জন্য প্রভাবশালী লোকজন এবং এমনকি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও যখন জড়িয়ে পড়েন, বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দেশ। প্রধানমন্ত্রীকে ন্যায়বিচারের আশ^াস দিতে হয়। বড় হুজুর তার মাদ্রাসার ছাত্রীদের ফাঁদে ফেলে ‘হুজুরের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক জায়েজ’ বলে ফতোয়া দিয়ে অগ্রসর হতেন। এরপর তার আর পরোয়া করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু কেন্দুয়া মাদ্রাসার হুজুরের বেলায় সম্ভবত ধর্ষণোত্তর আতঙ্ক কাজ করত। যারা তার ভিকটিম তাদের হাতে কুরআন শরিফ তুলে দিয়ে ওয়াদা করিয়ে মুখ বন্ধ করেছেন। কিন্তু তারও শেষ রক্ষা হয়নি।

 

১৯ জুলাই সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধর্ষণের দায় ছোট-বড় কোনো হুজুরেরই নয়।  ধর্ষণের শিকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীটি মাদ্রাসার নয় স্কুলের। ধর্ষণের শিকার নবাবগঞ্জ বাগমারা হাইস্কুলের ওই ছাত্রী তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে চায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ জরিমানাসহ তার বকেয়া বেতন, কোচিং ফি পরীক্ষার ফি সব আদায় করার পর ১১ জুলাই মেয়েটি যখন পরীক্ষা দিতে যায় তাকে হল থেকে বের করে দেন স্বয়ং প্রধান শিক্ষক। তাকে আর স্কুলে পড়তে দেওয়া হবে না! ধর্ষিত মেয়েটিকে পড়াশোনা করতেও দেওয়া হবে না এটিও তো ধর্ষণের আঘাতের চেয়ের চেয়ে কম কিছু নয়। প্রধান শিক্ষক মেয়েটিকে স্কুলে না পাঠাতে অভিভাবককে নির্দেশ দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনে মন্তব্য করেছেন, মেয়েটি লেখাপড়া করতে চাইলে সহযোগিতা করা হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না লেখাপড়া করতে চায় বলেই তো বকেয়া শোধ করে পরীক্ষার ফি শোধ করে পরীক্ষা দিতে এসেছিল মেয়েটি। ধর্ষিত হওয়ার, স্কুল থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার লজ্জা ও স্টিগমা যদি এ মেয়েটিকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দেয় (ধর্ষিত কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা মোটেও বিরল নয়), মৃত্যুর প্ররোচনার দায় থেকে কি প্রধান শিক্ষক রেহাই পাবেন? ১৭ জুলাইয়ের সংবাদÑ এবার বড় হুজুর নন, পীরের খপ্পরে পড়ে বারবার ধর্ষিত এবং পীরের হাতেই খুন হয়েছে আয়েশা আকতার। পীরের হাতিয়ারও ধর্ম। পড়াপানি খাওয়ানোর নাম করে কড়া ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শেষবারের মতো সঙ্গম স্থাপন করে গলায় ধাতব তার পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় মেয়েটিকে। আয়েশা আকতারের জন্য যেহেতু নুসরাতের মতো জনমত সৃষ্টি হয়নি, এই পীর হয়তো অন্যত্র তার অনাচার চালিয়ে যাবে।

 

২৩ জুলাই ছাপা হয়েছেÑ জিন ছাড়ানোর নামে ধর্ষণ : মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার (বাংলাদেশ প্রতিদিন)। ঢাকা শহরের দক্ষিণ খানের একটি মসজিদের এই ইমাম মাদ্রাসার বড় হুজুর (অধ্যক্ষ) নন, মাদ্রাসার শিক্ষক, মাঝারি বা ছোট হুজুর। ঝাড়ফুঁক ও জিন তাড়াবার নামে তিনি ধর্ষণেও পাকা, ছেলেশিশু বলাৎকারেও। এই হুজুর তার ধর্ষণ ও বলাৎকার চর্চা মসজিদের খাদেমদের দিয়ে ভিডিও করাতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন ভিকটিম নারীর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ইদ্রিস আহমেদ নামের এই ইমাম গ্রেপ্তার হন, তার জব্দকৃত মোবাইল ফোনে ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন অনাচারের ছবি মিলেছে।

 

২৪ জুনের খবর (সমকাল) : ঝালকাঠির রাজাপুরের নারিকেলবাড়িয়া জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার ঘটনাটি যৌন অনাচার নয়, তবে পাশবিক। মাদ্রাসায় চেয়ারে বসে থাকতে দেখে একজন শিক্ষক সাব্বির নামের একজন শিক্ষার্থীকে দা দিয়ে কোপ মেরেছেন! মু-ুহীন বালকের যে লাশ পাওয়া গেছে তারপর থেকেই মাদ্রাসার সুপার নিখোঁজ। তাকে বলাৎকার ও হত্যা কে করেছে এ নিয়ে বড় গবেষণার প্রয়োজন নেই। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার ফুটফুটে সেই বালকটির নাম আবির হোসাইন, কয়রাডাঙ্গার নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। দেশ রূপান্তরের ২৭ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে পুলিশের এক সদস্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘদিন ধরে আবিরকে বলাৎকার করা হতো এবং তা ধামাচাপা দিতেই এই হত্যাকা-।’

 

সন্দেহ বড় হুজুর মাদ্রাসার সুপার মুফতি আবু হানিফই এই পাশবিক কা-টি করেছেন। প্রতিবেদনে র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডারকে উদ্ধৃত করা হয় : ‘ঘাতক এতটাই চতুর ও ঠা-া মাথার খুনি যে খুব নিখুঁত পরিকল্পনায় খুন করা হয় মাদ্রাসা ছাত্রটিকে। এরপর হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে গুম করা হয়, যাতে করে সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মাসেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগছেÑ এটি প্রতিষ্ঠিত করা যায়।’

 

ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাংলা মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা ও শিক্ষক এবং এমনকি বিশ^বিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষকও এ অভিযোগের বাইরে নন। একই শাস্তি তাদের বেলাতেও কাম্য। কিন্তু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, পীর প্রমুখ যদি এ ধরনের অনাচারে লিপ্ত হন তাদের কারণে সমাজ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষের মনে ধর্ম সম্পর্কে বিরূপতা জন্মে। ইসলামের যে বাণী শিক্ষার্থীরা পবিত্র গ্রন্থে পাঠ করে আর তাদের কোনো কোনো হুজুরের যে জীবনাচরণ তারা দেখে, তার সঙ্গে তারা ইসলামকে মেলাতে পারে না। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যাদের পুঁজি তারা ধর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ‘র‌্যাডিক্যাল অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করতে চাইবেন না এটা অনুমেয়। এখানে যারা পড়ছে তারা ভিন্ন গ্রহের কেউ নয়, বাংলাদেশেরই, আমাদেরই সন্তান-সন্ততি ও স্বজন। দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার বড় হুজুর, নারিকেলবাড়িয়ার সুপার কিংবা ফেনীর সোনাগাজীর অধ্যক্ষ এ ধরনের দানবদের কাছ থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে কয়েকটি মাত্র প্রস্তাব রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সদয় বিবেচনার জন্য রাখছি : ১. সকল মাদ্রাসার সুপার/অধ্যক্ষের কক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ভবনের বাইরে হতে পারবে না এবং সেই কক্ষ হতে হবে স¦চ্ছ বা ‘সি থ্রু’। প্রতিষ্ঠান প্রধান কী করেন তা দৃশ্যমান হতে হবে, তারও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। ২. আবাসিক বালিকা মাদ্রাসা চত্বরে পুরুষ সুপার কিংবা কোনো পুরুষ শিক্ষকের আবাসিক কক্ষ থাকতে পারবে না। ৩. সরকারি চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে যেমন ঘটে, মাদ্রাসা শিক্ষকদের সম্পর্ক পুলিশের বিশেষ শাখার প্রতিবেদন সরকারের হাতে থাকতে হবে। ৪. শিক্ষকদের অশোভন ও যৌন ইঙ্গিতধর্মী আচরণ সম্পর্কে প্রতিবাদী হতে, অভিযোগ করতে সাহসী হতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অবহিতকরণ সভা করতে হবে। স্থানীয় কলেজের নারী অধ্যাপক/স্কুলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউএনও অফিসের কোনো কর্মকর্তার সমন্বয়ে এ কমিটি গঠিত হতে পারে। ৫. কোনো শিক্ষার্থী বিপন্ন বোধ করলে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠি লিখতে পারবেন এবং গোপনীয়তা রক্ষা করে ইউএনও অগ্রাধিকারভিত্তিতে বর্ণিত শিক্ষক/কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্ত করবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন। সেখানে একটি তালাবদ্ধ অভিযোগ বাক্সও থাকতে পারে যা ইউএনও ব্যক্তিগতভাবে খুলবেন এবং অভিযোগ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবেন।

 

ভ- হুজুরের জান্নাতের প্রলোভনে এবং জাহান্নামে পাঠানোর হুমকি দুটোই মিথ্যেÑ শিক্ষা পাঠদানের শুরু থেকেই এ কথাটি বারবার বলে আসতে হবে। ভ- পুরোহিত, যাজক...ভ- হুজুরের মতো ভ- পুরোহিত, ভ- ধর্মযাজক, ভ- ভান্তে সবই আছে। পোপ খ্রিস্টানদের যৌনাচার এবং এমনকি তাদের দ্বারা নানদের ধর্ষিত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ভারতের সেরাভাল্লি আশ্রমের অনিল পুরোহিত হিন্দু ধর্মগুরুদের যৌন অনাচার, ধর্ষণ ইত্যাদির কথা শুনতে শুনতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের জননাঙ্গ কেটে ফেললেন শুধু এটা প্রমাণ করতে যে সব পুরোহিতই ধর্ষণকারী নয়, দিল্লিতে ছয় ও আট বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের অপরাধে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭০ বছর বয়সী এক ধর্মগুরু। কানাডার হিন্দুসভার সভাপতি ও ধর্মগুরু পারভিন শর্মা তার দ্বারা ধর্ষিত নারীকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ওদিকে ইউরোপ আমেরিকার যাজকদের মধ্যে সমকামবৃত্তি এবং নানদের লেসবিয়ানিজম বেড়ে যাওয়ায়, পোপ তাদের বেপথু মনে করে চার্চ ছেড়ে দিতে বলেছেন।

লেখক

সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও লেখক