গ্রেপ্তারে সংবিধান মানতে হবে

হাইকোর্টে ফৌজদারি মামলায় আগাম জামিন নিয়ে ১৬ নীতিমালা ও নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পাশাপাশি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না করা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। নাশকতা ও উসকানির মামলায় বিএনপির শীর্ষ ১২ নেতাসহ ১৪ জনকে হাইকোর্টের দেওয়া আগাম জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশে এমন নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণের এ অনুলিপি গত সপ্তাহে প্রকাশ হয়। গতকাল তা গণমাধ্যমের হাতে আসে।

আপিল বিভাগের নীতিমালা ও নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলার কোনো আসামিকে হাইকোর্ট আট সপ্তাহের বেশি আগাম জামিন দিতে পারবে না। জামিনের আবেদনকারীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, রাহাজানির মতো গুরুতর অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আগাম জামিন দেওয়া যাবে না।  কাউকে আগাম জামিন দিলে এবং জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি জামিনের অপব্যবহার করলে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টে জামিন বাতিলের আবেদন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে জামিনের অপব্যবহারের অভিযোগে হাইকোর্ট জামিন বাতিল করবে। আগাম জামিনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এজাহার সতর্কভাবে 

পর্যালোচনা করেই হাইকোর্টকে জামিন দিতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসামি যেন সংশ্লিষ্ট মামলার কোনো সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে বিষয়টি আগাম জামিনের শর্ত হিসেবে জুড়ে দিতে হবে। এছাড়া কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আগাম জামিন দেওয়া যাবে না। এটি তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে আগাম জামিনের ক্ষেত্রে মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে।

আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা বঞ্চিত না করা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে হবে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘আইন অনুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ 

গত ১৮ এপ্রিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১২ শীর্ষ নেতা ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। আদালতে ওই ১৪ জনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশের ফলে ওই ১৪ জনকে হাইকোর্টের দেওয়া আগাম জামিন বহাল থাকে। 

ওইদিন আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের জানান, আগাম জামিনের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা, পর্যবেক্ষণ, নীতিমালাসহ লিখিত আদেশ দেওয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ এ নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ দিল।

আপিল বিভাগের আদেশে যাদের আগাম জামিন বহাল থাকে, তারা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, বরকতউল্লা বুলু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, এই আদেশের অনুলিপি বিচারিক আদালতে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই ১৪ জনকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তারা জামিনের আবেদন করলে তা সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তি করতে হবে।