‘লোন উলফ’ জঙ্গিরা গোপনে টেলিগ্রাম অ্যাপসে ‘উলফ প্যাক’ (জোটবদ্ধ হয়ে) গঠন করে পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও আগাম অভিযানে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাদের সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ
করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিটিটিসি প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে উলফ প্যাকের হামলা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে এমন কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি খামারবাড়ি ও পল্টন এলাকা থেকে উদ্ধার আইইডির মিল রয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নব্য জেএমবির উলফ প্যাকের পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলোÑ মোহাম্মদ শিবলী শাহাজাদ ওরফে সাথী, শাহ এম আসাদুল্লাহ মর্তুজা কবীর ওরফে আবাবীল, মাসরিক আহমেদ, আশরাফুল আল আমীন ওরফে তারেক ও এসএম তাসনিম রিফাত। তাদের মধ্যে দুজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
সিটিটিসির সিনিয়র সহকারী কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনলাইনের বিভিন্ন সাইটে ঢুকে সেলফ মোটিভেটেড হয়ে যারা জঙ্গি হন, তাদের লোন উলফ বলা হয়ে থাকে। পরে এই ‘লোন উলফ’ সদস্যরা বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে জোটবদ্ধ বা গ্রুপভিত্তিক র্যাডিক্যালাইজড হয়ে উঠলে তাদের ‘উলফ প্যাক’ বলা হয়ে থাকে। যাদের কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন বা নেতা নেই। এই কৌশলে অনেক আগে থেকেই জঙ্গিরা বিভিন্ন দেশে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তিনি বলেন, সাধারণত সেনাবাহিনীতে এই কৌশলের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।
অপর এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া উলফ প্যাকের পাঁচ সদস্য দেশি-বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের অনলাইন প্রচারে উদ্বুদ্ধ হয়ে পুলিশকে টার্গেট করে হামলার পরিকল্পনা করছিল।
সিটিটিসিপ্রধান মনিরুল বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শিবলী একটি ইস্তেহাদি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আবাবীল ছিল তাদের আধ্যাত্মিক নেতা। ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ করত। এই হামলা চালাতে যে অর্থ লাগত ডার্ক ওয়েব থেকে তা সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। আমাদের কাছে অর্থ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্যপ্রমাণও রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাশরিক আহমেদের দায়িত্ব ছিল সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করা। সে যশোরের বাসিন্দা। এ ছাড়া তারেক ও তাসনিম রিফাত মূলত সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। এই পাঁচজনের সঙ্গে আরও কিছু নাম পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলে পুরো গ্রুপটি সম্পর্কে জানা যাবে।’
৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচ জঙ্গি : গতকাল বিকেলে পাঁচ জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সিটিটিসি। এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই গ্রুপের পাঁচ সদস্যের মধ্যে সাদী ২০১৪ সাল থেকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত। হলি আর্টিজানে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত বাসারুজ্জামান চকলেটের মাধ্যমে সে জঙ্গিবাদে জড়ায়। তারা একসঙ্গে কলাবাগান এলাকার আলামীন মসজিদে মিটিং করত।
সিটিটিসিপ্রধান মনিরুল ইসলাম বলছেন, পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে জঙ্গিদের বেশিরভাগই গ্রেপ্তার বা নিহত হয়েছে। সেজন্য তারা পুলিশকে টার্গেট করছে। হলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গিবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের কারণে তারা অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়লেও নানা কায়দায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।