পিঁপড়ার মতো যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে লঞ্চ

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ছাড়ছে প্রতিটি লঞ্চ। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে গতকাল শুক্রবার ছেড়ে যাওয়া শতাধিক লঞ্চের কোনোটিতেই ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। এদিকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে পটুয়াখালীগামী ঘাটের পন্টুন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ঘাটেও যাত্রীদের ঢালাও প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টায় তৎপর

কর্র্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে বরিশালগামী লঞ্চ ‘এমভি ফারহান’ দ্রুতগতিতে পন্টুনে ভিড়লে এর ধাক্কায় তিন যাত্রী আহত হন; তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গতকাল সন্ধ্যায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সারি বেঁধে দাঁড়ানো লঞ্চ। যারা কেবিনের টিকিট পাননি তারা আগেভাগেই এসে লঞ্চের ডেকে জায়গা করে নেন। প্রতিটির ছাদও বোঝাই। দুপুরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ স্রোতের মতো সদরঘাটে ছুটতে শুরু করে। যানবাহনের অভাবে অনেকে হেঁটেই ঘাটে যায়।

সদরঘাট টার্মিনালে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) আলমগীর কবির দেশ রূপান্তরকে জানান, যেসব লঞ্চ যথাসময়ে ঘাটে ভেড়েনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, তীব্র গরমের কারণে অনেক যাত্রী ছাদে গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ঈদের সময় যাত্রী প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়। যে কটি লঞ্চ আছে সেগুলো দিয়েই যাত্রী পার করতে হয়। তাই এ সময় যাত্রীর কিছুটা চাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

ঝালকাঠির যাত্রী শামীম হাওলাদার জানান, দুপুর ১২টায় মাঝনদীতে নোঙর করে থাকা লঞ্চে ওঠেন। তারপরও জায়গা পাননি। পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোমতে ডেকে বসেছেন। তিনি আরও জানান, সদরঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার পরও লঞ্চগুলো ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুক্তারপুর (মুন্সীগঞ্জ) ও চাঁদপুর থেকে আরও যাত্রী নেয়। ফলে প্রচণ্ড চাপ নিয়েই যেতে হয় গন্তব্যে।

চাঁদপুরের যাত্রী মহিউদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ৬টার সময় এসে তিনি টার্মিনালে প্রবেশ করেছেন ৭টার দিকে। কখন লঞ্চ পাবেন তার ঠিক নেই।

সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আনোয়ার জানান, সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, বরগুনা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে যাত্রীবোঝাই

লঞ্চ। দিনের তুলনায় সন্ধ্যায় ও রাতে বেশি যাত্রী নিয়ে ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে।

পটুয়াখালীর বাউফলের যাত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তা বেশ ফাঁকাই পেয়েছি। কিন্তু সদরঘাট টার্মিনালের আগে প্রচণ্ড যানজট। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সব ধরনের যানবাহন আটকে দিয়েছে পুলিশ। ফলে বাধ্য হয়ে সেখান থেকে স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে হেঁটেই এসেছি। ঈদে সবাই মিলে একসঙ্গে আনন্দ করব, তাই এত কষ্ট সত্ত্বেও বাড়িতে যাওয়া।’

বরিশালের মো. মোশারফ হোসেন পরিবারসহ টার্মিনালে এসেছেন বেলা ১১টায়। তার লঞ্চ ছাড়বে রাত ৮টার পর। তিনি বলেন, ‘দেরিতে এসে যদি টিকিট না পাই কিংবা ভালো কোনো লঞ্চে টিকিট না পাই সেই চিন্তা করেই আগেই পরিবার নিয়ে এসেছি।’

পটুয়াখালীর যাত্রী জাকারিয়া অভিযোগ করেন, তিনি লঞ্চের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলেন। ছাড়ার কথা ছিল দুপুর ১২টায় কিন্তু পরে সেটি ছেড়ে যায় ১টায়। বেশি যাত্রী তুলতে অসাধু লঞ্চমালিকরা এটি করছেন। সময়মতো লঞ্চ ছাড়ছে না।

বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বরত কর্তকর্তা আবদুর রহমান বলেন, মূল টার্মিনালে যাতে ৩১টি লঞ্চ ভেড়তে পারে সেজন্য ১১টি পন্টুন রয়েছে। কিন্তু ঈদে যাত্রী ও লঞ্চের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। যাত্রী পেতে দেরি করা হচ্ছে, এই অভিযোগ সঠিক নয়।’

 

তিন যাত্রী আহত : গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমভি ফারহান লঞ্চটি দ্রুতগতিতে ঘাটে ভেড়ার সময় তার ধাক্কায় তিন যাত্রী আহত হন। তারা হলেনÑ বরগুনার নাজিম মাহমুদ, চাঁদপুরের রাজীব ও বরিশালের রায়হান। তাদের মধ্যে নাজিম ও রাজীবের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বরগুনার আমতলীর নাজিমের বাবা জাহেদুল ইসলাম সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তিনি দুর্ঘটনার পর ছেলেকে নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যাওয়ার কথা জানান। গুরুতর আহত রাজীবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।