গবেষণাপত্রে জালিয়াতি ও অন্য প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ৩ আগস্ট সিন্ডিকেট সভায় গবেষণায় জালিয়াতির অভিযোগে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত ও অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিযোগে লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আশরাফুল হককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
আমির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলাশয়ে
সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশের প্রভাব নিয়ে ২০১২ সালে একটি গবেষণা করে পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট। ২০১৭ সালে ওই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নতুন একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এসএম দিদারুল ইসলাম। এতে সহ-গবেষক হিসেবে আমির হোসেন, দিদারুলের স্ত্রী ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিনা রুমী এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী গাউসুল আজমের নাম রয়েছে। তখনই তাদের বিরুদ্ধে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ তপন কুমার মজুমদার। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই বছর চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সিন্ডিকেট তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং একটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠন করে। নিজে চক্রান্তের শিকার দাবি করে আমির হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টা জানতামই না। প্রধান গবেষক দিদারুলের সঙ্গে আমার কোনো সংযোগ ছিল না। না জানিয়েই সে আমার নাম দেয়। তাকে বলার পর সে ওই পেপার উঠিয়েও নেয়। ফের সে অন্য জায়গায় সেটা পাবলিশ করে। পরে দেখি আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি। এটা খুবই দুঃখজনক।’
আশরাফুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির পাশাপাশি ইনোভেশন ফর পোভার্টি অ্যাকশন নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক ছুটি না নিয়ে একই সঙ্গে আরেক প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরি করতে পারেন না, অনুমতি সাপেক্ষে কেবল খণ্ডকালীন চাকরি করতে পারেন। এ বিষয়ে ২০১৭ সালে উপাচার্যের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং আশরাফুল কমিটির কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। এর মধ্যে গত বছর জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগের আবেদন করেন তিনি। তবে এপ্রিলে সেটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। কিন্তু সিন্ডিকেট পদত্যাগ প্রত্যাহারের আবেদনকে গণ্য না করে পদত্যাগের আবেদনকেই মঞ্জুর করে। ইনোভেশন ফর পোভার্টি অ্যাকশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে আশরাফুল এখনো প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত। উপাচার্য বলেন, ‘অভিযোগ ওঠার পরও তিনি চাকরিটি ছাড়েননি। এখনো ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এ কারণেই তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদনের ব্যাপারে সহমর্মিতা দেখায়নি সিন্ডিকেট। তবে তিনি ছয় মাসের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন।’