মিরসরাইয়ে ১৭ মাসের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নে ১৭ মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২ আগস্ট দুপুরে উপজেলার আবুরহাট বাজারের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার শিশুটির বাবা জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করধতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ ঘটনার সন্দেহভাজন শিহাব উদ্দিন ইছাখালী ইউনিয়নের আবুরহাট বাজারের আশরাফ উদ্দিন জামে মসজিদের সাবেক ইমাম। ঘটনার

পরপরই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় বলে জানা গেছে।   

শিহাব উদ্দিন যে মসজিদে ইমাম ছিলেন, সেই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সদস্য আলমের কাছে প্রকৃত ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিহাব উদ্দিনের ঠিকানা আমাদের কাছে নেই। সে অল্প কয়েক দিন এই মসজিদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত ছিল। কয়েক দিন আগে সে এখান থেকে চলে গেছে।’  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্ষণের ঘটনার পর স্থানীয় একটি  প্রভাবশালী মহল ধামাচাপা দিতে গত ৩ আগস্ট সকাল ১০টায় সালিশের নামে শিশুটির বাবার সঙ্গে শিহাবের কোলাকুলি করিয়ে দেয়। এরপর ৪ আগস্ট ওই শিশুর বাবা শিশুটিকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘটনাকে ধর্ষণের উল্লেখ করে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

শিশুটির মা বলেন, গত শুক্রবার দুপুর ২টায় তার ভাতিজির কাছে ছিল শিশুটি। ওই সময় পাশের বাসার ভাড়াটিয়া শিহাব উদ্দিন শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে তার বাসায় নিয়ে যায়। তিনি (মা) গোসল করার জন্য বাইরে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর শিশুটি শিহাব উদ্দিনের বাসায় জোরে কান্নাকাটি শুরু করলে পাশের বাসার এক মেয়ে শিশুটিকে শিহাব উদ্দিনের ঘর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে তিনি গোসল করে ফিরে আসার পর দেখেন শিশুটি মাত্রাতিরিক্ত কান্না করছিল এবং দাঁড়াতে ও বসতে পারছিল না। এরপর তিনি শিশুর পরনের প্যান্ট খুলে দেখেন যৌনাঙ্গে ক্ষত। পরে স্বামী রাতে বাসায় ফিরলে বিষয়টি তাকে জানান।    

শিশুটির বাবা বলেন, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় শিশুটিকে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে পারেননি। পরে আবুরহাট বাজারের একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান থেকে সামান্য ওষুধ কিনে খাওয়ান। ঘটনার পর টাকার অভাবে ও ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারেননি। তাই এক সপ্তাহ পর গতকাল ন্যায়বিচারের আশায় জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

শিহাব উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার প্রকৃত ঠিকানা ও ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকের দেওয়া প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। ওই সময় তার ঠিকানা জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

জোরারগঞ্জ থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম জানান, শিহাব উদ্দিনের ঠিকানা সংগ্রহ করে মামলা করা হয়েছে।