ষষ্ঠবারের মতো কারাগারে ঈদ করবেন খালেদা জিয়া

জামিন না হওয়ায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবারও রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ঈদ করবেন। এর আগে সব মিলিয়ে মোট পাঁচবার কারাগারে ঈদ করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এই কোরবানির ঈদ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো কারাগারে ঈদ করবেন তিনি। গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারা কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন কারাবিধি অনুযায়ী তাকে খাবার দেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঈদের দিন তারাও খালেদা জিয়ার জন্য খাবার নিয়ে যাবেন।

মির্জা ফখরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো কারাগারে ঈদ করবেন। ২০১৮

সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত দুটি রোজার ও একটি কোরবানির ঈদ কারা হেফাজতে করেছেন তিনি। এর আগে ওয়ান-ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাবজেলে দুটি ঈদ করেছেন বেগম জিয়া। সাবজেলে খালেদা জিয়ার পাশের আরেকটি সাবজেলে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান দেশ রূপান্তরকে জানান, কোরবানির ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দুটি আবেদন করা হয়েছে। এর একটিতে দলের নেতারা এবং অন্যটিতে পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছেন। গত রোজার ঈদে পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের অনুমতি পেলেও দলের নেতারা পাননি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ৩ আগস্ট শনিবার লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান শিথি। তিনি তার দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানসহ ঢাকায় এসে সরাসরি গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ওঠেন। এর আগে স্বজনরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে এই দুই নাতনিকে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। তাই তাদের নিয়ে দেশে এসেছেন শিথি। শনিবার দেশে ফিরে মঙ্গলবার বিকেলে বিএসএমএমইউর ৬২১ নম্বর কেবিনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এক ঘণ্টার এই সাক্ষাতে তার সঙ্গে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ভাতিজা অভিক এস্কান্দার, নাতনি জাহিয়া রহমান ও রাইসা ইসলাম। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি নিজে গত দুই দিন বেগম জিয়াকে দেখতে যেতে পারেননি। তাই সর্বশেষ অবস্থা বলতে পারবেন না। তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, বেগম জিয়া ভালো নেই। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে নেই। ব্লাড সুগার ২৩ পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। এ ছাড়া হাঁটুর ব্যথাও বেড়েছে। তিনি কোনো কিছুই খেতে পারছেন না। বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বিএসএমএমইউ শাখার সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।

কারা কর্তৃপক্ষের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, ঈদের দিন সকালে খালেদা জিয়াকে ঢাকা কেন্দ্রীয় (কেরানীগঞ্জ) কারাগারের কারারক্ষীদের তৈরি পায়েস, সেমাই ও মুড়ি দেওয়া হবে। তার খাবার তৈরি করা হবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডায়েট চার্ট অনুযায়ী। দুপুরের খাবারে থাকতে পারে ভাত বা পোলাও; সঙ্গে থাকবে ডিম, রুই মাছ, মাংস আর আলুর দম। রাতের মেন্যুতে থাকছে পোলাও; সঙ্গে গরু অথবা খাসির মাংস, ডিম, মিষ্টান্ন, পান-সুপারি ও কোমল পানীয়। এর বাইরে তিনি কিছু খেতে চাইলে কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তা সরবরাহ করা হবে। তাকে যে খাবারই দেওয়া হোক না কেন তার সবই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে জেলে নেওয়া হয়। শুরুতে তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।