প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় নেতা ও সাংসদরা এবারের কোরবানির ঈদে গ্রামমুখী হচ্ছেন। মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি দেশকে গুজবমুক্ত রাখতে নিজ নিজ এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ জাগিয়ে তুলবেন তারা।
কারণ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন, দেশে সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে। কিন্তু একটি মহল গুজব রটিয়ে মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দিতে চায়। তাই আওয়ামী লীগের অন্যতম লক্ষ্য গুজবের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তোলা। দেশ রূপান্তরকে তাদের কয়েকজন জানান, এরই অংশ হিসেবে পাড়া-মহল্লায় সর্বোচ্চ সময় দেবেন আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরা। ঈদ জামাতের আগে-পরেও গুজবের বিরুদ্ধে বয়ান করা হবে। এ ছাড়া সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও গুজবের বিরুদ্ধে
সভা-সেমিনারের পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।
ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় ওই নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, আওয়ামী লীগ চায় গুজবের বিরুদ্ধে সমাজের ভেতর থেকেই প্রতিবাদ শুরু হোক। এর মাধ্যমে সামাজিক বিশৃঙ্খলাও দূর করা সম্ভব। তারা বলেন, রেডিও-টেলিভিশনের পাশাপাশি অন্যান্য গণমাধ্যমেও সচেতনতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য বলেন, গুজবের কাছে তাদের পরাজিত হতে হয়েছে। যেটা রাজনীতিও তাদের করতে পারেনি। তাই এখন গুজব নির্মূল করাই তাদের মূল রাজনীতি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চোখের চিকিৎসা করালেন বিদেশে; কিন্তু গুজব রটানো হলো তার ক্যানসার হয়েছে। সবকিছু এভাবেই চলছে। সম্পাদকম-লীর ওই সদস্য বলেন, গুজবের উৎপত্তি বিদেশ থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে সারা দেশে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডেঙ্গু নিয়েও একরকম গুজব ও অতিরঞ্জিত কিছু প্রচার চলছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী যেমন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে; আবার আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে যাচ্ছে। তারপরও ডেঙ্গু নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই পর্যায়ে আওয়ামী লীগ মনে করে, এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মানুষকে সচেতন করে তুলতেই হবে। মূলত এ জন্য আওয়ামী লীগ এই ঈদে একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে কাজ শুরু করবে।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, মানুষের মাঝে সচেতনতাবোধ জাগিয়ে তুলতে পারলে কোনো সমস্যাই আর থাকবে না। তিনি বলেন, এবারের ঈদে দলীয় নেতারা যারাই বাড়ি যাবেন, সবাইকে বলা আছে পরিষ্কার-পরচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি মানুষের ভেতরে অ্যাওয়ারনেস তৈরি করতে হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক মাঠে পরাস্ত হয়ে আমাদেরই প্রতিপক্ষ গুজব সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। তারা রাজনৈতিক মাঠেও পরাজিত হয়েছে, এখানেও পরাজিত হবে।’