দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়কে দূরপাল্লার ট্রাকচালকদের জন্য কোনো বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে তারা সড়কের পাশে ট্রাক থামিয়ে বিশ্রাম নেন। এর ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চালকদের জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার নির্মাণের নির্দেশ দেন। তা আমলে নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় চারটি জাতীয় মহাসড়কে আধুনিক বিশ্রামাগার করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত এক প্রকল্প প্রস্তাবনা এসেছে। প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, ২২৬ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকচালকদের জন্য আধুনিক সুবিধা সংবলিত বিশ্রামাগার স্থাপন করা হবে। ট্রাকচালকের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ঘুমানো, চালক পরিবর্তন ও যানবাহনের বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করতে দেশের প্রধান চারটি মহাসড়কে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা করা হলে চালকদের রাতযাপনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়তে এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এসব বিশ্রামাগার স্থাপনে কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ,
মাগুরার নিমসার, জগদীশপুর, পাঁচিলা ও লক্ষ্মীকান্দর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্পটির সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সূত্র আরও জানায়, যানজটে অনেক সময় চলে যাওয়ায় চালকরা রাস্তা ফাঁকা পেয়ে সময় পুষিয়ে নিতে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। তাতে কয়েক বছর থেকে সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সড়কে বিশ্রামাগার না থাকায় ট্রাকচালকরা অনেক সময় সড়কের পাশে ট্রাক থামিয়ে বিশ্রাম নেওয়ায় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া তারা বিশ্রাম নেওয়ায় বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালিয়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করে। এটা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে সড়ক বিভাগ জানায়।
এ অবস্থা থেকে দূরপাল্লার চালকদের রক্ষা পেতে গত বছরের ৯ মে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি করার নির্দেশ দেন। তা আমলে নিয়ে সড়ক পরিহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে সারা দেশে জাতীয় মহাসড়কে টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং সড়কের নিরাপত্তার উন্নয়নে ‘টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার জন্য চারটি জাতীয় মহাসড়কের পাশে পণ্যবাহী চালকদের জন্য পার্কিং সুবিধা সংবলিত বিশ্রামাগার স্থাপন’ প্রকল্পটি তৈরি করে।
এতে বলা হয়, বিশ্রামাগারে থাকবে বিনোদনের ব্যবস্থাও। টিভি, ওয়াশরুম, চা ও কফির ব্যবস্থা থাকবে। যাতে চালকদের ভ্রমণজনিত ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার মাধ্যমে স্বস্তিদায়ক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসব বিবেচনা করে সড়ক মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।
প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছেÑ চারটি বিশ্রামাগারের জন্য প্রায় ৪২ বিঘা জমি অধিগ্রহণ, ২৬ হাজার ২৮০ ঘনমিটার সড়ক বাঁধ নির্মাণ, ৬ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ৯৩ হাজার ১৬৫ বর্গমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, ৮ হাজার ৭৬০ বর্গমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট, ২ হাজার ৫০৩ মিটার মিডিয়ান নির্মাণ। এছাড়া ৩ হাজার ১২৩ মিটার কভার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, ৩ হাজার ৩ মিটার ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ১ হাজার ৮৬৩ বর্গমিটার দুইতলা আধুনিক ভবনও নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যাচাই-বাছাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে ২৩ এপ্রিল প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি-পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বলা হয়েছেÑ দুইতলাবিশিষ্ট বিশ্রামাগারে ওয়ার্কশপও নির্মাণ করা হবে। এতে খাবারের দোকান ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দোকান রাখা হবে। ট্রাকচালকদের পাশাপাশি অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা যাতে এ সুবিধা পান সে ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে যে ৪০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের কথাও বলা হয়েছে, তার যৌক্তিকতা কতটুকু তা বিবেচনা করা দরকার।