মোবাইল-ল্যাপটপ হ্যাক করে মানুষকে বধিরও করা যায়!

মোবাইল, ল্যাপটপের মতো আধুনিক গ্যাজেট হ্যাক করে মানুষকে বধির এবং অচেতন করার মতো শব্দ সৃষ্টি করা যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। খবর বিবিসির।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ম্যাট ওয়েক্সি দেখেছেন, ‘আক্রমণাত্মক’ নিম্নমানের সাইবার অস্ত্রে পরিণত হওয়া প্রতিরোধের সক্ষমতা মোবাইল, ল্যাপটপের মতো ডিভাইসের খুব কম আছে।

ওয়েক্সি ল্যাপটপ, মোবাইল, হেডফোন এবং কয়েক প্রকার স্পিকার পরীক্ষা করে বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

প্রযুক্তি পণ্যের এই দুর্বলতা শারীরিক ক্ষতির কারণ কিংবা বড় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ক্ষতিকর সফটওয়্যার তথা ম্যালওয়্যার কীভাবে সরাসরি মানুষের শারীরিক ক্ষতি করতে পারে, সেই বিষয়ে পিএইচডি করছেন ওয়েক্সি। তিনি পিডব্লিউসি সাইবার-সিকিউরিটির প্রধান।

তিনি জানার চেষ্টা করেছেন, ডিভাইসের ভলিউম এবং স্পিকার কন্ট্রোলে কারসাজি করে তাদের দিয়ে ক্ষতিকর তীব্র শব্দ এবং কম ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ উৎপন্ন করা যায় কি না।

ওয়েক্সি বিবিসিকে বলেন, ‘কিছু নির্দিষ্ট ডিভাইসের এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এই ধরনের সাইবার আক্রমণ কিছু ক্ষেত্রে কাছে কিংবা দূরে বসে করা যেতে পারে। আবার কিছু আক্রমণ হাত দিয়ে করা হতে পারে।’

ওয়েক্সি নিজে এমন একটি আক্রমণে সফল হয়েছেন। একটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করে লোকাল ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ স্ক্যান করেন তিনি। তারপর অরক্ষিত স্পিকারের শব্দ বাড়িয়ে দেন। আরেকটি পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট ডিভাইসটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরীক্ষাগুলো করা হয় শব্দরোধী রুমে। ওই সময় রুমের ভেতর কোনো মানুষ ছিল না।

ওয়েক্সির সঙ্গে ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করেছে। স্পিকার সিস্টেমের এমন হ্যাকিং ঠেকাতে তাদের সাহায্য করবেন তিনি।