সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া শিল্পের কোনো সমস্যা হলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চামড়া শিল্পের সঙ্গে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত থাকলে আমরা তা খতিয়ে দেখব। সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া শিল্পের কোনো সমস্যা হলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার সড়কপথে ঈদযাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক ছিল। একটি রুটে (টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ) দুর্ভোগ ছিল অসহনীয়। এলেঙ্গা থেকে রংপুর চার লেন না হওয়া পর্যন্ত এ দুর্ভোগ থাকবে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছিলেন, সরকারের একজন নেতার সিন্ডিকেটের কারণে চামড়ার দাম কমেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ওদের তো (বিএনপি) কোনো কাজ নেই। তারা তো ঢালাও অভিযোগ করে। তথ্য-প্রমাণসহ তাদের বলতে হবে, সরকারের কোন ব্যক্তির সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া শিল্পের সমস্যা হয়েছে।
চার লেন না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ থাকবে : সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘একটি রুট দুদিন খুবই দুর্ভোগের কারণ হয়েছিল। সড়কেও হয়েছিল এবং টার্মিনালেও অপেক্ষমাণ যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলেন। এটা টাঙ্গাইল রুটে।’ তিনি বলেন, ‘সমস্যাটি আগে ঢাকা-চট্টগ্রামে ছিল। এদিক থেকে এইট লেনে গিয়ে টু লেন ব্রিজে চলাচল, ওদিক থেকে ফোর লেনে এসে টু লেন ব্রিজে লম্বা টেইলব্যাক (যানজট) সৃষ্টি হচ্ছে। এখানেও সমস্যাটা ঠিক তাই। এখানে চার লেনে যাত্রাটা যেখানে শেষ হয়, টু লেন শুরু হয় সেখানে।’ তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে এমনিতেই গার্মেন্টকর্মীরাসহ শেষ দিকে চাপটা এমন যে, তখন প্রেসার মোকাবিলা করা খুব কঠিন। চার লেন থেকে যখন দুই লেনে যায় প্রেসারটা তখন লম্বা টেইলব্যাক সৃষ্টি হয় এবং টেইলব্যাকটা আরও লম্বা হয় যখন ধৈর্যহারা হয়ে চালকরা গাড়ি উল্টো পথে নিয়ে যায়। এ কারণটাই ছিল। যে কারণে দুদিন যাত্রাটা স্বস্তিদায়ক ছিল না, ভোগান্তি হয়েছে। অনেক মানুষ কষ্ট করেছে। গাড়ি দেরিতে আসার কারণে টার্মিনালেও বহু মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘শুধু টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জÑ এখানে যে সমস্যাটা, এ সংকট অনেক চেষ্টা করেও এড়াতে পারিনি। এখন এলেঙ্গা থেকে রংপুর চার লেনের কাজ শুরু হবে। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ থাকবে। আমি আশা করি, আমাদের ওদিকে আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপাতত চার লেন হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও ঈদ আছে, আরও প্রেসার আছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আপাতত কিছু ব্যবস্থা করার চিন্তা-ভাবনা আমরা করছি।’