ছাগল ছিনতাইচেষ্টা ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাগল ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্নাসহ ৯ জনকে আসামি করে দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাব-২ একটি ও ছাগলের মালিক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে অপর মামলাটি করেন। দুই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ১১ আগস্ট চাঁদার দাবিতে জিম্মি করে ছাগল ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় ওই দিনই দুটি মামলা হয়েছে। তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো ছাড়াও বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১১ আগস্ট ট্রাকযোগে যশোরের বাবুবাজার ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা থেকে কয়েকজন পশু বেপারি ২১২টি ছাগল নিয়ে ঢাকায় আসেন। ট্রাকটি মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের জহুরী মহল্লা এলাকায় প্রবেশ করলে ছাত্রলীগ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন সেটি আটকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রাক থেকে ছাগলগুলো নামিয়ে একটি ক্লাব ঘরে আটকে রাখা হয়। এ ছাড়া ছাগলগুলোর মালিক সাইফুল ইসলাম, শেখ সোলেমান, বাবু খান, ফারুক বিশ্বাস, নুরুজ্জামান ও মোহাম্মদ মাসুদ মণ্ডলকে আটকে রাখা হয়।

মোহাম্মদপুর থানার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে আসামিরা ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। খবর পেয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব-২ এর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করে। এ সময় ইয়াসির আরাফাত, জাহিদুল ইসলাম ও রায়হান নামে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্নার সহযোগী বলে জানায়। তারা আরও বলে, তান্নার নির্দেশেই চাঁদার জন্য ব্যবসায়ীসহ পশুবাহী ট্রাক আটক করেছিল। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা ছিনতাইয়ের সময় লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে ওয়াকিটকি ব্যবহার করেছিল। সেই সঙ্গে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়েছিল।