প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কর্মব্যস্ত মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। এতে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় বাড়তি চাপে মহাসড়কের ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। সিরিয়ালে আটকে থাকা সাধারণ বাসযাত্রীরা এ সময় চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকা অভিমুখে কর্মমুখী মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। ঘাট এলাকায় দুপুরের পর থেকেই নদী পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়া বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারের সারি দীর্ঘ হতে থাকে। বিকেল নাগাদ দৌলতদিয়ায় ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয় গাড়ির দীর্ঘ যানজট।
জানা যায়, ব্যস্ততম এ সময় এই রুটে চলাচলকারী ইউটিলিটি ফেরি কুসুম-কলি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় পড়ে আছে। ফলে বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফেরি কর্তৃপক্ষকে।
সরেজমিন দেখা যায়, ঘাট থেকে মহাসড়কের ৬ কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ পৌরসভার পদ্মার মোড় এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িগুলো বিকল্প সড়ক দিয়ে অন্তত ৮ কিলোমিটার ঘুরিয়ে ঘাটে পাঠাচ্ছে পুলিশ। গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাতে এ সকল গাড়িগুলোকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত মানুষ একযোগে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে। দুপুর পর্যন্ত যানবাহন গুলো সরাসরি ফেরিতে উঠছে। কিন্তু দুপুরের পর থেকে স্রোতের মতো বিপুলসংখ্যক যানবাহন নদী পার হতে আসায় মহাসড়কে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৯ টি ফেরি চলাচল করছে। বিকল থাকা ফেরিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চলাচল শুরু করবে বলে তিনি জানান।