কাশ্মীর নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদ

কাশ্মীরের অচলাবস্থা আগামী সোমবার থেকে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সোমবার থেকে জম্মু-কাশ্মীরের সকল স্কুল-কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্য সচিব বিভিআর সুব্রামানিয়াম শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে উপত্যকায়। অপরদিকে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজ্যের ২২টি জেলার মধ্যে ১২টিতে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক। পাঁচটি জেলায় রাত্রিকালীন কিছু নিষেধাজ্ঞা থাকছে। গতকাল শুক্রবার রাজস্থানের পোখরানে সেনা মহড়া অনুষ্ঠানের শেষ দিনে অংশ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ সময় তিনি বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র প্রথমে ব্যবহার না করার নীতিতে চলছে ভারত। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই নীতিরও পরিবর্তন হতে পারে।’ বিশ্লেষকরা কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের টানাপড়েনের মাঝে রাজনাথ সিংয়ের এমন বক্তব্যকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছেন।

এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করার ভারতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীনের অনুরোধে শুক্রবার বৈঠকটি হয় বলে জানিয়েছে এএফপি। এই আলোচনায় পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধি থাকবেন না। বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হওয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়। কোনো গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয়বস্তু প্রচারিত হবে না। এমনকি সাংবাদিকদেরও প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি।

গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদ বরাবর লেখা এক চিঠিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি ভারতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে বসার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যুদ্ধের উসকানি দেবে না। কিন্তু ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে। ভারত যদি ফের শক্তি প্রয়োগ করার পথে যায়, আত্মরক্ষার জন্য সর্বশক্তি নিয়ে পাকিস্তান জবাব দিতে বাধ্য হবে।’

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগেই কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশন ঘিরে বিক্ষোভ করে কয়েক হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানি ও কাশ্মিরি পতাকা হাতে ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ সেøাগান লেখা ব্যানার ছিল।

১৯৪৮ সালে ও ১৯৫০ সালের দিকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। এর মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট নেওয়ার কথাও ছিল। আরেকটি সিদ্ধান্তে উভয়পক্ষকে ‘পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে এমন কোনো বিবৃতি ও কাজ না করার জন্য বা পদক্ষেপের অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছিল।’ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ১৯৪৯ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েন আছে।

কাশ্মীর নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন জম্মু কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা জাভেদ। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লেখা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘সংবাদমাধ্যমে আবারও কথা বললে মারাত্মক পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে। কাশ্মীরিদের খাঁচার প্রাণীর মতো বন্দি রাখা হয়েছে আর বঞ্চিত করা হচ্ছে সব মৌলিক মানবাধিকার থেকে।’

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা ৩৭০ ধারা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আদেশে বাতিল করে। জম্মু-কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করে কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করে।