হবিগঞ্জে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে পুলিশের বাধা

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলার লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পুলিশ ভণ্ডুল করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে লাখাই থানা পুলিশের দাবি, এ অনুষ্ঠানের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাই বিশৃঙ্খলা এড়াতে তা বন্ধ করা হয়েছে। তবে আয়োজক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম মাহফুজের অভিযোগ, লাখাই থানার ওসির মাধ্যমে ১৩ আগস্ট পুলিশ সুপারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় লাখাইয়ের বামই বাজারসংলগ্ন খালি জায়গায় শোক দিবসের  অনুষ্ঠান চলছিল। হঠাৎ লাখাই থানার ওসি এমরান হোসেন সেখানে গিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পূর্বানুমতি থাকার পরও কেন অনুষ্ঠান বন্ধ করা হবে জানতে চাইলে, ওসি এমরান আয়োজকদের জানান, ‘ওপরের নির্দেশেই’ তিনি বন্ধ করতে এসেছেন। এ নিয়ে সভাপতি মাহফুজুল আলম মাহফুজসহ অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওসির তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে  দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ছাড়েন। এর কিছুক্ষণ পর বেশ কিছু পুলিশ নিয়ে ওসি আবারও সেখানে যান। তার নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত শোক দিবসের ব্যানার খুলে ফেলেন। এতে পণ্ড হয়ে যায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৩ আগস্ট পুলিশ সুপারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কাদা থাকায় আবদুর রহিম প্রাইমারি স্কুলমাঠের পরিবর্তে পাশের বামই বাজারের একটি খালি জায়গায় অনুষ্ঠানটি স্থানান্তর করা হয়েছিল। ওসির এহেন কাণ্ড দেখে উপস্থিত শত শত নেতাকর্মী হতাশ হয়েছেন। বাধার মুখে আমরা মিলাদে অংশ নেওয়া লোকজনকে শিরনি পর্যন্ত দিতে পারিনি। ওসি ‘শুধু ওপরের নির্দেশের’ কথা বলে রাষ্ট্রীয় এ অনুষ্ঠানটি পালন করতে দেননি।’

জানতে চাইলে লাখাই থানার ওসি এমরান হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা কোনো অনুমতি নেননি। ওই দিন দুপুরে শোক দিবসের অনুষ্ঠান উপজেলা পরিষদে হয়েছে। সেখানে স্থানীয় সাংসদ ছিলেন। একই বিষয়ে একাধিক অনুষ্ঠান করার কোনো প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া ওই অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা ছিল। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ছিল।’